Friday 17 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জনস্বার্থে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি সরকার: বিদ্যুৎমন্ত্রী

ডিস্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট
১৭ জুলাই ২০২৬ ১৬:৪০ | আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬ ২২:১৪

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জ: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সরকার নিম্ন আয়ের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। এজন্য মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ওপর কোনো মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েনি। সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন শেষে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইউনিয়নে স্প্রে মেশিন, গভীর নলকূপ, সেলাই মেশিন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ-নিম্ন বেঞ্চ ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, যারা মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। কারণ আমাদের গ্রামীণ এলাকার অধিকাংশ পরিবার এ সীমার মধ্যেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। আমি চেষ্টা করেছি যেন প্রান্তিক মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ব্যয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্রমবর্ধমান খরচ সত্ত্বেও সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানোই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের জন্য কোনো জ্বালানি আমদানি করতে হয় না। ফলে প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছেন। নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর মাধ্যমে সরকার খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে কাজ করছে।

অন্যদিকে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন বৃহৎ বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর