Monday 13 July 2026
EN
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
EN

২০০ বছর ধরে পাখিদের অভয়াশ্রম নীলফামারীর ‘পাখির গ্রাম’

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৩ জুলাই ২০২৬ ১৫:৩৯

পাখিদের গ্রাম।

নীলফামারী: নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটির পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রাম। প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাজার হাজার পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত এই গ্রাম এখন সবার কাছে ‘পাখির গ্রাম’ নামে পরিচিত। প্রায় ৪ একর ২০ শতাংশ জায়গাজুড়ে বিস্তৃত একটি বাঁশঝাড়ে সাদা বক, পানকৌড়ি, রাতচরা, ঘুঘু ও শালিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসবাস করছে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই পাখিরা এখানে নির্বিঘ্নে বসবাস করে আসছে।

চারদিকে সবুজে ঘেরা বিশাল বাঁশঝাড়টির প্রতিটি ডালপালায় এখন পাখিদের বিচরণ। ভোরে পাখির কিচিরমিচির আর সন্ধ্যায় হাজার হাজার পাখির ডানার শব্দ ও কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে পাখিদের বসবাসের কারণে গ্রামের আদি নাম ছাপিয়ে ‘পাখির গ্রাম’ নামটিই বেশি পরিচিতি পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাঁশঝাড়ের মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে তাদের পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম এই পাখিদের আশ্রয়স্থল সংরক্ষণ করে আসছেন।

বাঁশঝাড়ের মালিকদের একজন মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার দাদার আমল থেকেই আমরা এই পাখিগুলোকে দেখে আসছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করি কেউ যেন পাখিদের ক্ষতি না করে। তবে ইদানিং কিছু অসাধু শিকারি ও পর্যাপ্ত সংরক্ষণের অভাবে পাখিদের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আমরা চাই, সরকার এই এলাকাটিকে সরকারিভাবে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে সীমানা প্রাচীর ও নজরদারির ব্যবস্থা করুক।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এই গ্রামে প্রায় প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসেন পাখিগুলো দেখতে। আমরা গ্রামের সকলে মিলে চেষ্টা করি, যাতে এই পাখিগুলোকে কেউ বিরক্ত না করে।’

পাখির এই অভয়ারণ্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। তবে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথাও জানান তারা।

ভাউলাগঞ্জ থেকে আসা দর্শনার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে বসার জন্য জায়গা নেই। প্রতিদিন আমাদের মতো অনেকেই আসে এখানে, কিন্তু বসার ব্যবস্থা না থাকায় এসেই চলে যেতে হয়।’

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, ‘চিলাহাটির এই পাখির অভয়াশ্রমটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে সেখানে একটি পুকুর খননসহ কিছু সংস্কার কাজ করা হয়েছে। বনবিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে এই পাখির গ্রামটিকে আরও কীভাবে পর্যটনবান্ধব ও নিরাপদ করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।’

প্রকৃতি ও পাখির এমন মেলবন্ধন আধুনিক যুগে বিরল। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে ‘পাখির গ্রাম’টি প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর