কক্সবাজার: জেলার চকরিয়ায় নৌকাযোগে বন্যার পানিতে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা (১৩) নামে এক কিশোরী নৌকা ডুবে মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার দুই বোনকে মুমূর্ষু অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। নিহত ঝর্ণা স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেকের মেয়ে।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বন্যার পানিতে প্লাবিত বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নৌকায় রওনা দেন আব্দুল মালেক। পথে রসুলাবাদ এলাকায় প্রবল স্রোতে নৌকাটি উলটে গেলে ঝর্ণাসহ ৩ বোন পানিতে তলিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঝর্ণার দুই বোন সাওরিন মনি ও জেরিনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে তাদেরকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন। তবে ঝর্ণা নিখোঁজ থাকায় ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নিখোঁজের তিন ঘণ্টা পর ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত ঝর্ণার বাবা আবদুল মালেক জানান, তার বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ তিনি ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে বেরিয়েছিলেন। স্ত্রীসহ সাঁতরে উঠতে পারলেও সন্তানরা দুর্ঘটনার সময় ভেসে যায়।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বন্যার পানিতে পারাপারের সময় প্রবল স্রোতের কারণে নৌকাটি ডুবে ঘটনাটি ঘটে। প্রশাসনের সহায়তায় নিখোঁজ কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা দিদারুল হক বলেন, কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। পরে চট্টগ্রাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে অভিযানে অংশ নেয়। পরে দুপুর ২টার দিকে ঝর্ণার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি দল আনা হয়। নিখোঁজ কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে।