রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর বসন্তপুর রেলগেট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক রেলগেটের ব্যারিয়ার ভেঙে রেললাইনের ওপর উঠে যায়। এতে প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।
সোমবার (২৯শ জুন) ভোর চারটার দিকে সদর উপজেলার বসন্তপুর রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যশোরের নওয়াপাড়া থেকে মানিকগঞ্জগামী সারবোঝাই ট্রাকটি বসন্তপুর রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং রেলগেটের ব্যারিয়ার ভেঙে রেললাইনের ওপর চলে আসে। চালক অসুস্থ থাকায় ট্রাকটি হেলপার চালাচ্ছিল। হেলপার ঘুমিয়ে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা নকশিকাঁথা কমিউটার ট্রেন পাঁচুরিয়া জংশনে আটকে থাকে, এবং রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে যাওয়া ভাঙ্গাগামী লোকাল ট্রেনটি রাজবাড়ীতেই থাকে। এছাড়া ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি ফরিদপুরে আটকা পড়ে।
ট্রাকের হেলপার সোহেল জানান, ‘আমি এই ট্রাকের হেলপার। যশোর থেকে জীপ সার নিয়ে মানিকগঞ্জে যাচ্ছিলাম। আমি ট্রাকে ৪ বছর ধরে আছি। পথে আমার উস্তাদ (চালক) এর শরীর খারাপ হয় জ্বর আসে। তখন ওস্তাদ আমার গাড়ি চালাতে বলে, আমি গাড়ি চালাই। আমার হঠাৎ ঘুম চলে আসে আর ঘুমের কারণে এই ঘটনা ঘটে ।’

ভেঙেচুরে যাওয়া ট্রাকটি।
বসন্তপুর রেল গেটম্যান রেজাউল হাওলাদার বলেন, ‘রাতে ২টি ট্রেন চলে বেনাপোল এক্সপ্রেস ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস। বেনাপোল এক্সপ্রেস ২টায় চলে যায়। এরপর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ৩টা ২০ মিনিটে চলে যাওয়ার পর আমি রুমে আসি। ২০ মিনিট পরে একটা শব্দ হয় তখন রুম থেকে বের হয়ে দেখি রেলিং ভেঙে লাইনের উপরে ট্রাক চলে আসছে। তখন আমরা অফিসে জানাই এরপর থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।’
স্থানীয় বাসিন্দা মহীন মোল্লা বলেন, ‘এখানে আগে স্পিড ব্রেকার ছিল। নতুন রাস্তা করার সময় সেই স্পিড ব্রেকার আর নির্মাণ করেনি। আমরা অনেক বলেছি, কন্ট্রাকটার বলেছিলেন নতুন স্পিড ব্রেকার দেওয়া হবে। কিন্তু এক বছর হলো এখনো স্পিড ব্রেকার হয়নি। এখানে মাঝে মাঝে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এখান দিয়ে নিয়মিত স্কুলের শিক্ষার্থী চলাচল করে। কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। আমরা এখানে স্পিড ব্রেকার চাই।’
বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজবাড়ীর সিনিয়র সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (ওয়ে) মো. মাহবুব হাসান বলেন, ‘ভোর ৫টার দিকে গেটম্যান বলেন একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেললাইনের উপর আটকে গেছে। এটা শুনেই আমি রওনা দিই এবং আসার পর থেকেই রেকার এনে কাজ শুরু করা হয়। ৬ ঘন্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।’