Sunday 21 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

তিস্তার তাণ্ডবে নিশ্চিহ্ন বাঁধ, ১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিংয়ে ভাঙন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ জুন ২০২৬ ১৭:৩৯

তীব্র স্রোতে ভেঙে গেছে বাঁধ।

রংপুর: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মহিপুর তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও তীব্র স্রোতে এলজিইডির ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত বাঁশের পাইলিং ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা থেকে সেতুটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে শুরু হওয়া এই ভাঙনে এরইমধ্যে ৩০ মিটারের বেশি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে ৬০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

এতে করে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কটি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে অন্তত ৩০-৩৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে লালমনিরহাট জেলার সঙ্গে বুড়িমারী স্থল বন্দরের সরাসরি যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানান, গত বছরও একই স্থানে ভয়াবহ ভাঙন ধরে। তখন প্রায় ১০০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সেতুটি হুমকির মুখে পড়েছিল। সেসময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের উজানে বাঁশের পাইলিং দিয়ে সাময়িকভাবে ভাঙন রোধের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান না নেওয়ায় এবার সেই বাঁশের পাইলিং ভেদ করে পানির স্রোত আবারও বাঁধকে গ্রাস করছে।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, ‘গত বছর ভাঙন ধরলে আমরা এলজিইডিকে সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা তা শোনেনি। শুধু সরকারি অর্থ অপচয় করে বাঁশের পাইলিং করেছে। এখন সেই পাইলিং শেষ, আবারও ভাঙন। ঠেকানো না গেলে সেতুর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে।’

মহিপুর তিস্তা সেতুটি রংপুরের সঙ্গে লালমনিরহাটের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। এই সড়ক ও সেতু বন্ধ হয়ে গেলে লালমনিরহাটের মানুষকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে রংপুরে যেতে হবে। শুধু তাই নয়, সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিন গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবার সরাসরি বাস্তুচ্যুত হওয়ার হুমকিতে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রিপন ও কাইয়ুম বলেন, ‘নদীতে পানি বাড়তেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা এখন ভীষণ ভয়ে আছি।’

কৃষক খোরশেদ আলী জানান, ‘এই বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু সেতুই নয়, আমাদের আবাদি জমিও নদীতে চলে যাবে।’

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘গত বছর ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ অনুযায়ী পাইলিং করা হয়েছিল। তবে এবারের ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।’

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। সুরক্ষা বাঁধটি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘বাঁশের পাইলিং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়। মহিপুর সেতু এলাকায় তিস্তার স্রোত তুলনামূলক বেশি হওয়ায় স্থায়ী সমাধানের জন্য কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব রয়েছে। তবে প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও স্থানীয়রা দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে জোর দিয়েছেন।’