Friday 19 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাম্পার ফলন / সিরাজগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা পেঁপে

আশরাফুল ইসলাম জয়, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৯ জুন ২০২৬ ০৮:০৬ | আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ০৯:৫৬

সিরাজগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা জাগাচ্ছে পেঁপে। ছবি: সারাবাংলা

সিরাজগঞ্জ: কৃষি বিভাগের সহায়তা, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের আগ্রহে এ বছর জেলায় পেঁপের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে হাইব্রিড ও শাহী জাতের পেঁপে চাষ করে কৃষকেরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও সরবরাহ করছেন তারা। কৃষকরা বলছেন, পেঁপে চাষ সম্ভাবনাময় একটি বাণিজ্যিক ফসলে পরিণত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলার সদর, কামারখন্দ, বেলকুচি, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও উঁচু জমিতে এ বছর ব্যাপকভাবে পেঁপে চাষ হয়েছে। কৃষকরা মূলত হাইব্রিড ও শাহী জাতের পেঁপে চাষে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন। ফলন ভালো হওয়ায় অনেক কৃষক এখন ধান বা অন্য ফসলের পাশাপাশি পেঁপেকে প্রধান বাণিজ্যিক ফসল হিসেবে বিবেচনা করছেন।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন উপজেলায় সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সবুজ পেঁপে গাছে ভরপুর ফলন। অনেক গাছে একসঙ্গে অসংখ্য পেঁপে ঝুলে আছে, যা কৃষকদের ব্যাপক সন্তুষ্টি জাগাচ্ছে। কৃষকদের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়া অনেক বেশি অনুকূলে ছিল। ফলে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন উভয়ই ভালো হয়েছে।

সদর উপজেলার কৃষক আব্দুল কুদ্দুস সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি আগে ধান ও ভুট্টা চাষ করতাম। কিন্তু লাভ কম হওয়ায় কয়েক বছর আগে পেঁপে চাষ শুরু করি। এ বছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। প্রতিটি গাছে ২৫ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত পেঁপে ধরেছে। বাজারে দামও ভালো পাচ্ছি।’

সিরাজগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা জাগাচ্ছে পেঁপে। ছবি: সারাবাংলা

সিরাজগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা জাগাচ্ছে পেঁপে। ছবি: সারাবাংলা

কামারখন্দ উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম সারাবাংলাকে বলেন, ‘এ বছর পাইকাররা সরাসরি ক্ষেত থেকে পেঁপে কিনে নিচ্ছেন। আমাদের আলাদা করে বাজারে যেতে হচ্ছে না। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমেছে।’

সিরাজগঞ্জে উৎপাদিত পেঁপে স্থানীয় বাজারে চাহিদা মেটানোর পর এখন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল, বগুড়া, রাজশাহী ও পাবনা জেলায় সিরাজগঞ্জের পেঁপের চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, সিরাজগঞ্জের পেঁপে আকারে বড়, স্বাদে ভালো ও দীর্ঘ সময় সংরক্ষণযোগ্য হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা বাড়ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা খেত থেকেই পেঁপে কিনে নিয়ে যাওয়ায় কৃষকরাও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন।

পাইকারি ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘সিরাজগঞ্জের পেঁপে মানসম্মত হওয়ায় আমরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করছি। এতে খরচ কমে যাচ্ছে এবং বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পারছি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, এ বছর জেলায় প্রায় ২০৫ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে এর চেয়েও বেশি জমিতে চাষ হয়েছে বলে জানা গেছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের আগ্রহ এই চারটি কারণে এবার পেঁপে চাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে।

সিরাজগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা জাগাচ্ছে পেঁপে। ছবি: সারাবাংলা

সিরাজগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা জাগাচ্ছে পেঁপে। ছবি: সারাবাংলা

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা সারাবাংলাকে বলেন, ‘সিরাজগঞ্জে পেঁপে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ফসল হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে। কৃষকেরা ধীরে ধীরে ধাননির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বিকল্প ফসল হিসেবে পেঁপে চাষে ঝুঁকছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর প্রায় ছয় হাজার মেট্রিক টন পেঁপে উৎপাদন হতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। এটি কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

পেঁপে কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থায় খাওয়া যায়। ফলে সারা বছরই বাজারে এর চাহিদা থাকে। পাশাপাশি পেঁপের কষ ও বিভিন্ন উপাদান ওষুধ শিল্পে ব্যবহার হওয়ায় এর বাণিজ্যিক গুরুত্বও দিন দিন বাড়ছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেঁপে কম খরচে বেশি লাভজনক ফসল। সঠিক পরিকল্পনা ও বাজার ব্যবস্থাপনা থাকলে এটি কৃষকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী আয়ের উৎস হতে পারে। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, তারা আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে পেঁপে চাষের পরিকল্পনা করছেন। কেউ কেউ আবার আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানোর চিন্তা করছেন। আর এ জন্য তারা সরকারি সহায়তা ও বাজার নিশ্চয়তার বিষয়টিতে সরকারকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন।

সিরাজগঞ্জে পেঁপে চাষ শুধু কৃষকদের মুখে হাসি ফোটায়নি, বরং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, ভালো বাজারমূল্য এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের মাধ্যমে পেঁপে এখন জেলার একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক ফসলে পরিণত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর