Tuesday 16 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জাল ভিসায় ৩০ লাখে নেপাল হয়ে ইতালি, গ্রেফতার বিমানের কর্মকর্তা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৬ জুন ২০২৬ ১৫:৩৩

সিআইডি হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন।

ঢাকা: জাল শেনজেন ভিসার মাধ্যমে জনপ্রতি ৩০ লাখ টাকায় চুক্তি করে নেপাল হয়ে ইতালিতে মানবপাচারের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আখলাসুর রহমানকে (৪০) গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে সিআইডি হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা।

তিনি বলেন, ‘সিআইডির টিএইচবি (মানব পাচার প্রতিরোধ) ইউনিট আজ (মঙ্গলবার) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ থানা এলাকার নিলক্ষীয়া বাজার থেকে আখলাসুর রহমানকে গ্রেফতার করে। তিনি গ্রাউন্ড সার্ভিস, আইএনএস গেইট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।’

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সুপার বলেন, ‘ইতালিতে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভনে মানব পাচার চক্রের দুই সদস্যের সঙ্গে জনপ্রতি ৩০ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী ভুক্তভোগীরা জনপ্রতি ২০ লাখ টাকা দেয়। পরবর্তীতে চক্রটি তাদের নেপালগামী ও ইতালিগামী বিমান টিকিট, বোর্ডিং পাস এবং ইতালির শেনজেন ভিসা সরবরাহ করে। গত ২৬ মে ভুক্তভোগীরা বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করেন। ইতালির রোম ফিউমিচিনো লিওনার্দো দা ভিঞ্চি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের পাসপোর্টে সংযুক্ত শেনজেন ভিসা পরীক্ষা করে জাল বলে শনাক্ত করেন। পরে তাদের আটক করে দুইদিন হেফাজতে রাখা হয় এবং ২৮ মে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ফেরার পর ইমিগ্রেশন পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য সংস্থা কর্তৃক জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগীরা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দেন। তদন্তে প্রতীয়মান হয় যে, মানবপাচারকারী চক্রটি বিদেশে বৈধ কর্মসংস্থানের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাল ভিসা সরবরাহের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিমানবন্দর (ডিএমপি) থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান আইনে গত ৩০ মে মামলা করা হয়। মামলাটি তদন্তকালীন সিআইডির টিএইচবি ইউনিট নিবিড় তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আখলাসুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য পায়।’

প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

তিনি আরও বলেন, ‘মানবপাচার, জাল ভিসা, অভিবাসী চোরাচালান কিংবা এ ধরনের অপরাধ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে সিআইডিকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’