Wednesday 10 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

তথ্য গোপন করে প্রধান পরীক্ষকের দায়িত্বে মা, ছেলে পরীক্ষার্থী

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১০ জুন ২০২৬ ১৬:০৪

ছবি: সংগৃহীত।

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার নাকাটিহাট শহীদ আব্দুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মাসুমা রশিদের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে প্রধান পরীক্ষকের দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, মাসুমা রশীদের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী।

গত ১ জুন এ বিষয়ে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একই বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) তৈয়বুর রহমান।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মাসুমা রশিদের ছেলে পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। অথচ তিনি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের জন্য প্রধান পরীক্ষকের দায়িত্ব নেন, যা শিক্ষা বোর্ডের প্রচলিত বিধি-বিধানের পরিপন্থি।

বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, প্রধান পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার জন্য শিক্ষা বোর্ডের অনলাইন পোর্টালে দেওয়া তথ্যে একাধিক অসংগতি রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজের চাকরিতে যোগদানের সাল, বিষয়ভিত্তিক পরিচয়, বিএড ডিগ্রি অর্জনের সময় এবং বর্তমান পদবিসহ বিভিন্ন তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাসুমা রশিদ ২০১২ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগদান করলেও অনলাইনে ১৯৯৮ সাল উল্লেখ করেছেন। সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে দেখিয়েছেন। এছাড়া ২০২০ সালে বিএড সম্পন্ন করলেও সেখানে ২০০৪ সাল উল্লেখ করা হয়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত থাকলেও নিজেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, একজন প্রধান পরীক্ষকের নিজ সন্তান পরীক্ষার্থী হলে মূল্যায়নের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এতে অন্য পরীক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা মাসুমা রশিদ বলেন, ‘তার ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে পত্রিকায় দেওয়া তথ্যগুলো ভুল দেওয়া হয়েছে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।’

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘পরীক্ষক নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়। সেখানে সন্তান বা নিকটাত্মীয় পরীক্ষার্থী কি না, তা উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, ‘তথ্য গোপন করে এ ধরনের দায়িত্ব নিয়ে থাকলে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর