Friday 05 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত, অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৫ জুন ২০২৬ ১৪:৩২ | আপডেট: ৫ জুন ২০২৬ ১৫:১৫

থানার অভিযুক্ত সাবেক ওসি আজাদ।

রংপুর: রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনায় দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, ঘটনার তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি শীঘ্রই তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে, যার ভিত্তিতে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে উত্তাল রংপুরের রাজনৈতিক অঙ্গন। ভুক্তভোগী রাকিবুল ইসলাম রাকিবের চিকিৎসা ও বিচারের দাবিতে সরব হয়েছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো।

বিজ্ঞাপন

রাকিবের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জানিয়ে রংপুর মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জহির আলম নয়ন জানান, ‘থানায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার আশায় যান। সেখানে একজন রাজনৈতিক নেতাই যদি এভাবে মারধরের শিকার হন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? তিনি নিশ্চিত করেন, দল ও ভুক্তভোগী নেতার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।’

এ ব্যাপারে রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম বলেন, ‘পোশাক বদলেছে, কিন্তু পুলিশের চরিত্র বদলায়নি। তাদের রক্তে এখনো স্বৈরাচারী গন্ধ। অতিদ্রুত তাদের বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিলে আমরা থানা ঘেরাও করে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলব।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তা অতীতে আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের ঘটনাগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়।’

অন্যদিকে ঘটনার পরপরই রংপুর মহানগর পুলিশ (আরএমপি) দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়। প্রাথমিকভাবে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হলেও পরে ওসি আজাদ রহমানসহ মোট পাঁচজনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যাহার করা পাঁচ পুলিশ সদস্য হলেন সদ্য সাবেক ওসি আজাদ রহমান, এসআই মাসুদ রানা, সদ্য সাবেক ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা, কনস্টেবল লিমা সরেন, কনস্টেবল বাসুদেব।

এছাড়া ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে সভাপতি করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ডিসি (ক্রাইম) মো. মাহফুজুর রহমান এবং এসি (কোতোয়ালি) সুকুমার রায়।

পুলিশের বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং খুব শীঘ্রই প্রতিবেদন পুলিশ কমিশনারের কাছে জমা দেবে। তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দফতরে সুপারিশ করা হতে পারে।

এবিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সূত্র জানায়, গত বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কোতোয়ালি থানায় প্রেমিক যুগল নিখোঁজের ঘটনায় জিডি সূত্রে তাদের উদ্ধারের পর বিষয়টি মীমাংসায় গিয়ে মারধরের শিকার হন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানার ভেতরেই ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ তাকে রাইফেলের বাট দিয়ে পিটিয়ে জখম করে এবং ফোন কেড়ে নেয়। তবে এ ঘটনায় অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি আজাদ রহমান বিতর্কিত মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দেন। আহত নেতার শরীরে রক্তের দাগ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘অনেক সময় আম ছিলতে গিয়েও তো রক্ত বের হয়।’

ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান এবং ওই রাতেই রাকিবকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন ও বিভাগীয় মামলার ফলাফলের দিকে এখন নজর ভুক্তভোগী পরিবারের।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর