Tuesday 02 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাবা-মায়ের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২ জুন ২০২৬ ২১:০৫ | আপডেট: ২ জুন ২০২৬ ২১:১২

ভোলায় তোফায়েল আহমেদের জানাজা

ভোলা: তৃতীয় দফা জানাজা শেষে নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হল মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ভোলা-১ ও ভোলা-২ সংসদীয় আসনের ৯ বারের জাতীয় সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদকে।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে তোফায়েল আহমেদের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির সামনে তার তৃতীয় এবং শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় তোফায়েল আহমেদের স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জানাজা শেষে বাড়ির সামনে পারিবারিক কবরস্থানে তোফায়েল আহমেদের বাবা আজাহার আলী, মা ফাতেমা খানম ও স্ত্রী আনোয়ারা আহমেদের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তার মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঢাকা থেকে ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ডে অবতরণ করে। সেখান থেকে তার মরদেহটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হয় শহরের সরকারি স্কুল মাঠে। সেখানেই তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে দুপুর আড়াইটার দিকে বর্ষীয়ান এই নেতাকে দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘গার্ড অব অনার’। এরপর মরদেহ নেওয়া হয় কোড়ালিয়া গ্রামে।

গতকাল সোমবার (১ জুন) ধানমন্ডিতে তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন বিকেলে রাজধানী ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

এদিকে তোফায়েল আহমেদের জানাজা ও দাফনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভোলা সদর উপজেলায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তোফায়েল আহমেদ ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর দুপুরে ঢাকায় নিজ বাসভবনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সিসিইউতে এবং পরবর্তীতে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। গত কয়েক বছর ধরে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেছেন তিনি। স্ট্রোকের কারণে তার শরীরের একাংশ প্যারালাইজড হয়ে যায়।

তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের তেতুলিয়া নদীর তীরের কোড়ালিয়া গ্রামে মৃত আজাহার আলী ও ফাতেমা খানম দম্পতির ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন। তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক ও পারিবারিক জীবনে পেছন থেকে সাহস জুগিয়েছিলেন স্ত্রী আনোয়ার বেগম। ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর বার্ধক্যজনিত কারণে তিনিও মৃত্যুবরণ করেন। তোফায়েল আহমেদ মৃত্যুকালে একমাত্র মেয়ে ডা. তাসলিমা আহমেদ মুন্নি ও জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান-সহ বহু স্বজন, কর্মীসমর্থক ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর