রংপুর: রংপুরে বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং উপজেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শামীম আল মামুনকে (৪০) চেক ডিজঅনার মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে রংপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ (বদরগঞ্জ)-এর বিচারক সোহেল রানা তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
শিক্ষকতার পেশার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে শামীম আল মামুনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র ও মামলার বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কেবল একটি মামলার এজাহারভুক্ত নয়, বরং তার বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, বদরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বাওচণ্ডির মো. ফয়সাল হককে শিক্ষা অধিদফতরের এসএস ডিপি প্রকল্পে চাকরি দেওয়ার নামে ১৬ লাখ টাকা নেন শামীম আল মামুন। পরে টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়ে তিনি ওই পরিমাণের একটি চেক দেন। কিন্তু গত ৫ অক্টোবর ফয়সাল হক ওই চেক ব্যাংকে উপস্থাপন করলে ‘পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায়’ তা ডিজঅনার (বিনামূল্যে ফেরত) হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফয়সাল হক শামীম আল মামুনসহ জিকরুল হক ও হাদিউজ্জামান নামে আরও দুইজনের বিরুদ্ধে রংপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন।
পরে গত সোমবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারক শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রংপুর জেলা কোর্ট ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শামীম আল মামুনের নামে জাল সনদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে আরেকটি মামলাও রয়েছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ২০২০ সালের ২২ সেপ্টেম্বরের একটি পত্র থেকে জানা যায়, তৃতীয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ভুয়া নাম, রোল ও ঠিকানা ব্যবহার করে এবং জাল সনদ দিয়ে ২০১১ সালের ১৩ জুলাই বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে বাংলা বিভাগের প্রভাষক পদে চাকরি নেন তিনি। সেই মামলাটিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, শামীম আল মামুনের বিরুদ্ধে শুধু এই দু’টি মামলাই নয়, চাকরি দেওয়ার নামে বিভিন্ন পেশাজীবীর কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেই অসহায় ও দরিদ্র, যারা এখনও টাকা উদ্ধারের আশায় রয়েছেন। এ ছাড়া, জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভুপেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, ‘শিক্ষক শামীম আল মামুনকে চেক ডিজঅনার মামলায় আদালত কারাগারে পাঠিয়েছে। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।