সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার দেবহাটায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিস পরিদর্শনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দাফতরিক চেয়ারে বসেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১১টার দিকে দেবহাটার সখিপুর মোড় এলাকায় অবস্থিত সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-জোনাল অফিস পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন জামায়াত নেতা, পুলিশের কর্মকর্তা ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শনের একপর্যায়ে এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করেন এবং তার নির্ধারিত দাফতরিক চেয়ারে বসেন। পরে তিনি বিদ্যুৎ সরবরাহ, গ্রাহক ভোগান্তি ও চলমান কার্যক্রম নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ কেউ বলছেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে এমপি অফিস পরিদর্শন করতেই পারেন, তবে প্রশাসনিক শিষ্টাচার বজায় রাখা উচিত ছিল। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, বিষয়টি অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিতর্কিত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী কামরুজ্জামান ভুট্টো বলেন, ‘পদমর্যাদা ও ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্যের অবস্থান অনেক ওপরে হলেও সেটি কোনো কর্মকর্তার নির্ধারিত দাফতরিক চেয়ারে বসার অধিকার দেয় না। সাধারণত পরিদর্শনে গেলে বা সভায় অংশ নিলে আলাদা সম্মানজনক আসনের ব্যবস্থা করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনিক শিষ্টাচার অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য কোনো সরকারি কর্মকর্তার নির্ধারিত দাফতরিক চেয়ারে বসেন না। সরকারি অফিসের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার জন্য এ ধরনের বিষয় এড়িয়ে চলা উচিত।’
এ ছাড়া এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আজিজুর রহমান সরকার বলেন, ‘এমপি মহোদয় কেন কর্মকর্তার চেয়ারে বসেছেন, সেটি আমার জানা নেই।’
সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. নজিবুল্লাহ বলেন, ‘বিদ্যুতের বেহাল অবস্থা থেকে উত্তরণ এবং জনগণ যাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে পারে, সে লক্ষ্যেই এমপি মহোদয় দেবহাটা পল্লী বিদ্যুতের সাব-জোনাল অফিস পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যুতের সমস্যা ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে চান। এজিএম সাহেবের অনুরোধেই তিনি ওই চেয়ারে বসেন।’