Monday 18 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

তনু হত্যা মামলা
ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল আরও এক ব্যক্তির তথ্য

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৮ মে ২০২৬ ০৮:৩০ | আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ০৮:৩৬

সোহাগী জাহান তনু।

কুমিল্লা: বহুল আলোচিত কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। মামলাটির বর্তমান তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত আলামতের ডিএনএ বিশ্লেষণে আরও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর নমুনা শনাক্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।

রোববার (১৭ মে) দিবাগত রাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই ঢাকা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, পূর্বের ডিএনএ প্রতিবেদনে তিনজন পুরুষের উপস্থিতির তথ্য থাকলেও সাম্প্রতিক পরীক্ষায় নতুন করে আরও একজন পুরুষের রক্তের নমুনা শনাক্ত হয়েছে। ডিএনএ ল্যাব থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে ওই ব্যক্তির একটি পৃথক ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন কয়েকজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও মিলিয়ে দেখার কার্যক্রম চলছে।

গত ৬ এপ্রিল সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতের নির্দেশে গত ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে হাফিজুর রহমানকে আটক করা হয়। পরদিন তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শেষে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন ডিএনএ তথ্য মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনে দিয়েছে। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন ডিএনএ তথ্য পাওয়ায় সন্দেহভাজন আরও কয়েকজনের নমুনা সংগ্রহ করে মিলিয়ে দেখা হবে। এরইমধ্যে একজনের নমুনা নেওয়া হয়েছে। অন্যদের অবস্থান শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ, পরে ডিবি ও সিআইডি তদন্ত করলেও দীর্ঘ সময়েও হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়নি। ২০১৭ সালে সিআইডি তনুর পোশাকের আলামত পরীক্ষায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতির তথ্য প্রকাশ করে। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন পিবিআই সদর দফতরের পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর