যশোর: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাসফরে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একজন শিক্ষককে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাসফরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে একজন ছাত্রী অভিযোগ করেছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রভাষক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অ্যাকাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই শিক্ষককে আপাতত ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা কার্যক্রমসহ বিভাগের সব অ্যাকাডেমিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষা সফরের দায়িত্বও তাকে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
অভিযোগের বরাতে জানা যায়, ২২ এপ্রিল বিভাগের শিক্ষাসফরে অংশ নেওয়া এক ছাত্রী মনিরুলের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উত্থাপন করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং শিক্ষার্থীদের আলোচনায় বিষয়টি সামনে এলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধবিষয়ক ‘কমপ্লেইন্ট কমিটি’কে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গঠিত ৫ সদস্যের ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’ তাদের তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।
যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধবিষয়ক ‘কমপ্লেইন্ট কমিটি’র আহ্বায়ক অধ্যাপক শিরিন নিগার বলেন, ‘আমরা বুধবার রাতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পেয়েছি। আগামী দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় রোববার কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসব। এরপর নথিপত্র পর্যালোচনা করে দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোপাল চন্দ্র ঘোষ বলেন, “বিভাগের পক্ষ থেকে গৃহীত সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে সকল অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের কক্সবাজারে শিক্ষাসফরে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সফরে বিভাগের প্রভাষক মনিরুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকরা যোগ দেন।
সফরের একপর্যায়ে বিভাগের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে প্রভাষক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ক্যাম্পাসে ফিরে বিষয়টি জানাজানি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অভিযোগ উঠে, ওই শিক্ষকের কাছ থেকে সাধারণ ‘মুচলেকা’ নিয়ে পুরো ঘটনাটি সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট শেয়ার করেন। এতে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত শিক্ষক মনিরুল যবিপ্রবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০০৮-৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে নিয়োগ পাওয়া সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল মজিদের সময়ে নিয়োগ পান।