Saturday 25 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সিলেটে দিলওয়ার হত্যা: দুই সপ্তাহেও নেই গ্রেফতার, মানববন্ধনে ক্ষোভ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৪

মানববন্ধনে উপস্থিত নিহত দিলওয়ারের দুই শিশুসন্তানও।

সিলেট: সিলেটে মসজিদের নামকরণ নিয়ে বিরোধের জেরে দিলওয়ার হোসেন হত্যার দুই সপ্তাহ পার হলেও এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার ৭ নম্বর মোগলগাঁও ইউনিয়নের গালমশাহ গ্রামে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে নিহতের ছেলে সাইদুল ইসলাম সোহাগ (১৫) অভিযুক্তদের বিচার দাবি করে বলেন, ‘আমার বাবাকে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার আগের রাতে হত্যাকারীরা আমার বাবাকে হত্যা করার প্রি-প্ল্যান করে। আমরা অতি দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং তাদের ফাঁসি দেখতে চাই।’

বিজ্ঞাপন

এ সময় তার ছোটো ভাই নুর মোহাম্মদ শারুফও (৩) উপস্থিত ছিল। দুই শিশুর কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

গালমশাহ গ্রামের পঞ্চায়েত কমিটির প্রবীণ সদস্য মোবারক আলী বলেন, ‘ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। দেশে এখন আধুনিক ডিজিটাল সিস্টেম থাকার পরও কেন আসামীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, তা আমরা ভালো করে জানি এবং বুঝি। অনতিবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার করা না হলে গালমশাহ গ্রামে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে—তাহলে এর পুরো দায়ভার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি এক সপ্তাহের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে আমরা এলাকাবাসীকে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হব এবং বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

মানববন্ধনে পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি শফিক মিয়া ও সেক্রেটারি কলিম উল্লাহর উপস্থিতিতে নাজিম উদ্দীন মেম্বার, বাবুল মেম্বার, মোবারক আলী, সলিম উল্লাহ, বারিক উল্লাস, নুর উদ্দিন, তারেক আহমদ ও খালেদ হোসেন বক্তব্য দেন।

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অফিসার ইন-চার্জ) শামসুল হাবীব সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং ‘উপরমহলের নির্দেশনা’র কথা উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল বিকেলে গালমশাহ গ্রামের পঞ্চায়েতি জামে মসজিদের সামনে জুমার নামাজের পর নামকরণ নিয়ে শালিসি বৈঠকে মতবিরোধের জেরে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন দিলওয়ার হোসনের ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করে। পরে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরদিন নিহতের ভাই সোহেল আহমদ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর