চট্টগ্রাম: মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ডে প্রথম দিনে ১ হাজার ৩ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নগরী ও জেলার মোট ২১৮টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে পরীক্ষার্থীদের চোখে-মুখে উত্তেজনার পাশাপাশি কিছুটা উদ্বেগ দেখা গেলেও অধিকাংশ কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেখা যায়। অনেক কেন্দ্রেই অভিভাবকদের ভিড় সামলাতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের হিমশিম খেতে হয়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমান থাকা অভিভাবকদের পানি ও শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন। এছাড়া পরীক্ষার কেন্দ্রেও বিশুদ্ধ পানির পর্যান্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব রোধে এবার বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, ‘মঙ্গলবার বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় ৯৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী উপস্থিতি ছিল। অনুপস্থিত ছিল মোট ১ হাজার ৩ জন। নানা সমস্যা বা অসুস্থতার কারণে অনেকে পরীক্ষায় বসতে পারেননি, এমনটি ধারণা করা যায়। তবে পরীক্ষা শুরুর থেকেই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি কেন্দ্রের খবর রাখছি। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই প্রথম দিনের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ৭৬টি বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। তীব্র গরমে একটু হিমসিম খেতে হচ্ছে সবাইকে।’
তিনি জানান, এবারের পরীক্ষার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে চলমান তাপপ্রবাহ। পরীক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা মাথায় রেখে প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত খাবার পানি এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট এড়াতে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছিল, যার ফলে অধিকাংশ কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালীন লোডশেডিংয়ের সমস্যা দেখা দেয়নি।
চট্টগ্রাম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ ৩০ হাজার ৭২৪ জন; যাদের মধ্যে ৫৬ হাজার ৩৫১ জন ছাত্র ও ৭৪ হাজার ৩৭৩ জন ছাত্রী।