ঢাকা: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক আবাসিক হল থেকে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে হলের ৪১৩ নম্বর কক্ষ থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত শিক্ষার্থীর নাম কনিষ্ক মাঝি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
হল সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে ৪১৩ নম্বর কক্ষের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বাড়িতে থাকায় কক্ষে একাই অবস্থান করছিলেন কনিষ্ক মাঝি। দুপুর প্রায় ৩টার দিকে পাশের কক্ষের এক শিক্ষার্থী তার রুমে নক করেন। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি আরেকজন শিক্ষার্থীকে ডাকেন।
পরে তারা দুজন মিলে আবারও দরজায় নক করেন। তাতেও কোনো সাড়া না পেয়ে জানালার কাঁচ ভেঙে ভেতরে তাকালে কনিষ্ক মাঝিকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর হল প্রশাসনের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করলে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মরদেহ নামানো হবে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট জানান, ঈদের ছুটির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে বাড়ি চলে গেছেন। হলে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী অবস্থানের কারণে ঘটনা জানতে কিছুটা সময় লেগেছে। শিক্ষার্থীরা খবর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৪১৩ নম্বর কক্ষে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ঝুলন্ত অবস্থায় কনিষ্ক মাঝিকে দেখতে পান। পরবর্তীতে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ নামানোর ব্যবস্থা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলম বলেন, তিনি ঈদের ছুটিতে ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর নির্দেশ দেন। প্রক্টরিয়াল বড়ি আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) নিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
তিনি আরও বলেন, কনিষ্ক মাঝির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।