কুড়িগ্রাম: জেলার উলিপুর উপজেলার বামনাছড়া ফারাজীপাড়া গ্রামে নারীদের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও ব্রেস্ট ক্যানসার সচেতনতা নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গ্রামীণ নারীদের জন্য শুক্রবার (১৩ মার্চ) ‘আমরা নারী’, ‘সিওক হেলথকেয়ার’ এবং বামনাছড়া ইসলামীয়া গ্রাম রক্ষক সমিতির উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে কুড়িগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আ ন ম গোলাম মোহাইমেন বলেন, ক্যানসার এখন শুধু চিকিৎসার বিষয় নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সচেতন জীবনযাপন ক্যানসার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই ক্যানসার নিরাময় করা সম্ভব।
তিনি বলেন, রক্তরোগ ও ক্যানসারজনিত জটিলতা দ্রুত শনাক্ত করা গেলে রোগীর জীবন রক্ষা করা সহজ হয়। তাই কোনো লক্ষণকে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা ও নিয়মিত স্ক্রিনিং-ই হতে পারে এই রোগের বিরুদ্ধে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা।
গ্রামীণ ও অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে আয়োজিত এই সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উলিপুর সার্কেল) মো. আশরাফুল আলম, বামনাছড়া ইসলামীয়া গ্রাম রক্ষক সমিতির সভাপতি মো. নুরুজ্জামান সরকার ও বামনাছড়া ইসলামীয়া গ্রাম রক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ প্রভাষক মিনহাজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে ‘আমরা নারী’র প্রতিষ্ঠাতা এম এম জাহিদুর রহমান বিপ্লব বলেন, ‘আমরা নারী’ একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সামাজিক সংগঠন, যার লক্ষ্য নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক কল্যাণ এবং মানবিক উন্নয়ন। আমাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আমরা নারী রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ নারী-পুরুষ উভয়ের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে কাজ করছে। খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবাধিকার; এই পাঁচটি মূল স্তম্ভের ভিত্তিতে আমরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছি। সিওক হেলথকেয়ার বাংলাদেশে ক্যানসার সচেতনতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই লক্ষ্যেই ‘আমরা নারী’ ও ‘সিওক হেলথকেয়ার’ নারীর স্বাস্থ্য সচেতনতা ও উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সেমিনারের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণের গুরুত্ব, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা, সময়মতো রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা এবং জীবনযাপনে ঝুঁকিপূর্ণ কারণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।
আয়োজকরা জানান, স্বাস্থ্য শিক্ষা, গণমাধ্যম ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হবে।