Tuesday 03 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শাহাদাত হত্যা মামলায় ‘জলদস্যু’ আরিফের ৫ দিনের রিমান্ড

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩ মার্চ ২০২৬ ১৯:০২

‘ডাকাত সর্দার’ আরিফ

কক্সবাজার: কক্সবাজারের গভীর সমুদ্রে জেলে শাহাদাত হোসেন খোকন হত্যা ও ফিশিং ট্রলারে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেফতার ‘ডাকাত সর্দার’ আরিফের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কুতুবদিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কুতুবদিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত ও বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ট্রলার ‘এফবি অজুফা আক্তার বানু’র মালিক জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে কুতুবদিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় জলদস্যু জমির, ওমর আলী, রুহুল কাদের, রহমত উল্লাহ, জোবায়ের হোসেন ও ডাকাত সর্দার আরিফসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৮ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বাড়ি কক্সবাজার সদর ও মহেশখালীর মাতারবাড়ি, হোয়ানক এলাকায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১৫) রোববার (১ মার্চ) দিবাগত রাতে কক্সবাজার পৌরসভার পেশকারপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরিফকে গ্রেফতার করে। আরিফ পেশকারপাড়ার বাসিন্দা শাহজাহানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত অন্তত আটটি মামলা রয়েছে কক্সবাজার, ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায়।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কুতুবদিয়া উপকূলের ‘গুলির ধার’ এলাকা থেকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারটিতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। আরিফের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র দল ট্রলারটিকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে এবং নিজেদের বোট দিয়ে ধাক্কা দেয়। এ সময় জেলে শাহাদাত হোসেন খোকন (১৭) গুরুতর আহত হন। তাকে চিকিৎসার জন্য উপকূলে আনার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। ডাকাত দলটি ট্রলার থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে পাশের একটি জাহাজে আশ্রয় নিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-১৫–এর সহকারী পরিচালক (ল অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক বলেন, ‘গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

জেলে খোকন হত্যার পর উপকূলজুড়ে জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় জেলেরা গভীর সমুদ্রে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কুতুবদিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফারুক হোসেন আরও বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দস্যু চক্রের অন্য সদস্যদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর