শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে বিদেশে নিয়ে যেয়ে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে প্রতারণার জের ধরে কুপিয়ে আহত করা হয় সৌদি প্রবাসী শফিকুল বেপারিকে। এ ঘটনায় মামলার পর ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ভুক্তভোগীর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
সোমবার (২ মার্চ) এই প্রতিবেদক ভুক্তভোগীর বাড়ীতে গেলে তাদের কাউকে পাওয়া যায় নি। জানা গেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন পরিবারটি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা শফিকুল বেপারি এবং তার বোন জামাই সোলাইমান চৌকিদার বর্তমানে সৌদি প্রবাসী। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন আগে সোলাইমান চৌকিদারকে বিদেশে নিয়ে যেয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে দালাল আইয়ুব আলি সরদার তার সঙ্গে প্রতারণা করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজ শেষে বাড়িতে এসে শফিকুল দেখতে পান, আইয়ুব আলি সরদারের ছেলে রাতুল সরদার তার লোকজন নিয়ে তাদের বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছেন। সেসময় শফিকুল ও তার পরিবার এর প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
এক পর্যায়ে রাতুল সরদার ছুরি দিয়ে শফিকুল বেপারির পেটে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার ঘটনায় শফিকুলের ছোটবোন বাদী হয়ে তিন জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে রাতুল সরদারকে। অন্য দুইজন আসামি হলেন, রুমা বেগম ও মমো আক্তার। তবে এখনও প্রধান আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ভুক্তভোগীর পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
অন্যদিকে, মামলা তুলে নিতে আসামি পক্ষের লোকজন তাদের বাড়ীতে এসে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তোভোগীর পরিবারের।
মামলার বাদী মাহফুজা অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামীকে বিদেশে নিয়ে কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও কাজ না দিয়ে প্রতারণা করেন আইয়ুব আলি। এজন্য তার সঙ্গে মাঝেমধ্যে আমাদের ঝগড়াঝাটি হতো। ওইদিন রাতে আমার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরি দিয়ে পেটে আঘাত করে রাতুল। বর্তমানে মামলা উঠিয়ে নিতে হুমকি দিচ্ছেন আসামিরা। মামলা উঠিয়ে না নিলে আমার ভাইসহ আমাদের হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছেন। পুলিশ আমাদের কোনো রকম সহযোগিতা করছে না। দেশে কতরকম প্রযুক্তি থাকলেও তারা আসামি ধরতে গড়িমসি করেছেন। আমি আপনাদের কাছে ন্যায় বিচার চাই। আমার ভাইকে যারা আহত করেছেন তাদের বিচার চাই।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য রাতুল সরদারের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার মা জানান, রাতুল কোথায় আছেন তা তিনি জানেন না। মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দিতে রাজি হননি।
ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, এরই মধ্যে মামলাটি নথিভূক্ত করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আমরা আশাকরি দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিকে গ্রেফতার করা হবে।