নরসিংদী: জেলায় কিশোরী ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া আহম্মদ আলী দেওয়ানকে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করেছে সদর উপজেলা বিএনপি। সেই সঙ্গে হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাকে গ্রেফতার করেছে নরসিংদী গোয়েন্দা পুলিশ। গত দুইদিনে মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন সই করা দলীয় চিঠিতে আহম্মদ আলী দেওয়ানকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।
ওই মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল-ফারুক জানান, মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাকে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে এবং হযরত আলী নামে আরেক আসামিকে ময়মনসিংহের গৌরিপুর থেকে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক মামলার ৫ আসামিকে গ্রেফতারের তথ্য জানান। এ নিয়ে কিশোরী হত্যা মামলার মোট ৯ আসামির মধ্যে ৭জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নরসিংদীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-ফারুক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ড নূর মোহাম্মদ নূরা স্বীকার করেছে। সে পার্শবর্তী দেশ ভারতে পালানোর পরিকল্পনাও করেছিল বলে গ্রেফতারের সময় জানিয়েছে।
এদিকে গতকাল গ্রেফতার ৫ আসামীকে আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। বিজ্ঞ আদালত আগামী রোববার (১ মার্চ) রিমান্ড শুনানীর দিন ধার্য করে। আজ দুপুরে সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি নূরা ও হযরত আলীকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। সেখানে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে প্রায় ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে একদল বখাটে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় মহিষাশুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে বিচার চাওয়া হলেও তিনি তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। উল্টো অপরাধীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে বিষয়টি রফাদফা করেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিচারের আশা না পেয়ে গত বুধবার রাতে বাবা তার মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরা ও তার সহযোগীরা বাবার কাছ থেকে জোরপূর্বক কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে দড়িকান্দী এলাকার একটি শর্ষেখেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের মা ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেন।