Friday 12 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ফেলে দেওয়া ‘জামের বিচি’র পুষ্টিগুণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
১২ জুন ২০২৬ ১৬:৩৩

কালো কুচকুচে টসটসে পাকা জামের মধুর রসে মুখ রাঙাতে কার না ভালো লাগে! তবে জাম খাওয়ার পর আমরা অবলীলায় যে অংশটি ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলি, পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সেটিই আসলে এই ফলের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ। হ্যাঁ, বলা হচ্ছে জামের বিচির কথা। আয়ুর্বেদ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসায় বহু প্রাচীনকাল থেকেই জামের বিচি এক মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে রক্তে সুগার বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এর জুড়ি মেলা ভার।

আসুন জেনে নেই, জামের এই অবহেলিত অংশের চমকপ্রদ সব স্বাস্থ্যগুণ এবং এটি ব্যবহারের সঠিক নিয়ম…

ফেলে দেওয়া জামের বিচির জাদুকরী স্বাস্থ্যগুণ:

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মহৌষধ

বিজ্ঞাপন

জামের বিচিতে রয়েছে ‘জ্যাম্বোলিন’ ও ‘জ্যাম্বোসিন’ নামক দুটি অনন্য উপাদান। এগুলো রক্তে শর্করার রূপান্তর প্রক্রিয়াকে ধীরগতির করে এবং অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুবই কম হওয়ায় এটি রক্তে হঠাৎ সুগারের মাত্রা বাড়তে দেয় না। এমনকি প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত চিনি বের হয়ে যাওয়ার সমস্যাও (গ্লুকোসুরিয়া) এটি কমিয়ে আনে।

লিভারের সুরক্ষাকবচ

এই বিচি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা লিভারের কোষগুলোকে ক্ষতিকারক ‘ফ্রি র‍্যাডিকেলস’ থেকে রক্ষা করে। এটি লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি লিভারের ভেতরের যেকোনো ধরনের প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন দূর করতে প্রাকৃতিক উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।

হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপের যত্ন

জামের বিচিতে উপস্থিত ‘এলাজিক অ্যাসিড’ রক্তচাপের আকস্মিক ওঠানামা বা হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুণ কার্যকরী। নিয়মিত এর ব্যবহারে কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম ভালো থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।

শরীর থেকে টক্সিন দূর করে

প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার হিসেবে জামের বিচির গুঁড়ো চমৎকার কাজ করে। এটি শরীরের ঘাম ও প্রস্রাবের স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রেখে ভেতরে জমে থাকা ক্ষতিকর টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ বাইরে বের করে দেয়। ফলে শরীর ভেতর থেকে সতেজ থাকে।

তারুণ্য ধরে রাখতে (অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের খনি)

এতে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ফেনলিক যৌগ থাকে। এই শক্তিশালী উপাদানগুলো শরীরের কোষের ক্ষয় রোধ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে সহজে বয়সের ছাপ পড়ে না এবং ত্বক টানটান থাকে।

মুখের দুর্গন্ধ ও মাড়ির সমস্যার সমাধান

জামের বিচির অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বা জীবাণুরোধী গুণের কারণে এটি মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দারুণ কার্যকর। মাড়ির ইনফেকশন, দাঁতের ব্যথা এবং মুখের ভেতরের ব্যাকটেরিয়াজনিত দুর্গন্ধ দূর করতে এর গুঁড়ো ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

হরমোনের ভারসাম্য ও পিসিওএস (PCOS)

নারীদের পিসিওএস বা হরমোনজনিত জটিলতায় জামের বিচির গুঁড়ো অত্যন্ত উপকারী। এটি শরীরে ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রেখে হরমোনের ক্ষরণ স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে।

ঘরে বসেই যেভাবে তৈরি করবেন জামের বিচির পাউডার…

ধাপ ১: জাম খাওয়ার পর বিচিগুলো ভালো করে ধুয়ে একটি ছড়ানো পাত্রে কড়া রোদে ২ থেকে ৩ দিন শুকিয়ে নিন।

ধাপ ২: ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে নখ বা ছুরির সাহায্যে বিচির ওপরের পাতলা বেগুনি বা বাদামি খোসাটি ছাড়িয়ে নিন।

ধাপ ৩: এবার ভেতরের সবুজ বা সাদাটে অংশটি শুকনো তাওয়ায় হালকা টেলে নিন।

ধাপ ৪: সবশেষে ব্লেন্ডার বা শিলপাটায় পিষে মিহি পাউডার বানিয়ে একটি এয়ারটাইট কাচের বয়ামে সংরক্ষণ করুন।

সেবন পদ্ধতি

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে অথবা রাতে ঘুমানোর আগে আধা থেকে এক চা-চামচ জামের বিচির গুঁড়ো হালকা গরম পানিতে গুলে পান করুন।

সতর্কবার্তা

যারা অলরেডি ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের নিয়মিত ওষুধ খাচ্ছেন, তাঁরা এই গুঁড়ো সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।