টয়লেটের চেয়েও জীবাণুমুক্ত রান্নাঘরের সিঙ্ক! শুধু সাবান-পানিতে কি সত্যি পরিষ্কার হয়? প্রতিদিন নিয়ম করে থালাবাসন মাজার পর আমরা হয়তো ভাবি রান্নাঘরের সিঙ্কটি একদম পরিষ্কার হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। চিকিৎসকদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে পরিষ্কার মনে হলেও রান্নাঘরের সিঙ্ক আসলে বাড়ির অন্যতম নোংরা একটি জায়গা, যা এমনকি টয়লেটের চেয়েও বেশি জীবাণুবাহী হতে পারে।
সিঙ্ক কেন টয়লেটের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক?
আমরা সাধারণত জানি টয়লেটে জীবাণু বেশি থাকে এবং সে কারণে প্রতিবার ব্যবহারের পর ফ্ল্যাশ করা হয় এবং নিয়মিত কড়া ক্লিনার দিয়ে তা পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু রান্নাঘরের সিঙ্কের ক্ষেত্রে আমরা কেবল সাধারণ সাবান বা ডিশওয়াশার ব্যবহার করি।
সারাদিন সিঙ্কে ময়লা থালাবাসন, খাবারের কণা, কাঁচা শাকসবজির ময়লা এবং মাছ-মাংসের টুকরো ধোয়া হয়। বিশেষ করে কাঁচা মাংস ধোয়ার কারণে সিঙ্কে ‘ই-কোলাই’-এর মতো বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া জমে। যেহেতু সিঙ্কের চারপাশ ও ড্রেন পাইপ সবসময় ভেজা বা আর্দ্র থাকে, তাই ব্যাকটেরিয়াগুলো সেখানে খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। চিন্তার বিষয় হলো, এই সিঙ্কের পাশেই আমরা ধোয়া বাসন রাখি এবং খাবার তৈরি করি। ফলে সিঙ্কের জীবাণু সহজেই খাবারে ছড়িয়ে পড়ে পেটের অসুখসহ নানা রোগব্যাধি তৈরি করতে পারে।
ঘরোয়া উপায়ে সিঙ্ক সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করার জাদুকরী কৌশল
দামি কোনো রাসায়নিক বা ক্ষতিকর ক্লিনার ছাড়াই রান্নাঘরের সিঙ্ককে শতভাগ ব্যাকটেরিয়ামুক্ত করা সম্ভব। রান্নাঘরে থাকা মাত্র দুটি সাধারণ উপাদান, বেকিং সোডা এবং ভিনেগার ব্যবহার করেই সিঙ্ক স্যানিটাইজ করা যায়।
প্রথম ধাপ (বেকিং সোডা): প্রথমে পুরো সিঙ্কের ভেতর ভালো করে বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিন। এবার একটি ব্রাশ দিয়ে সিঙ্কের কোণাগুলো ঘষে নিন। এরপর হালকা গরম পানি ঢেলে পুরো সিঙ্কটি ধুয়ে ফেলুন।
দ্বিতীয় ধাপ (ভিনেগার): গরম পানি দিয়ে ধোয়ার পর পুরো সিঙ্কে তরল ভিনেগার ছড়িয়ে দিন এবং ৩০ থেকে ৪০ মিনিট এভাবেই রেখে দিন। ভিনেগারের অ্যাসিডিক উপাদান ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করবে।
শেষ ধাপ: সময় শেষ হলে আবার ব্রাশ দিয়ে হালকা ঘষে সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন সিঙ্ক যেমন ঝকঝকে হবে, তেমনি দূর হবে সব দুর্গন্ধ ও জীবাণু।
উল্লেখ্য, থালাবাসন মাজার স্পঞ্জ বা স্ক্রাবার দিয়ে কখনোই সিঙ্ক পরিষ্কার করবেন না। সিঙ্ক পরিষ্কারের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা ব্রাশ ব্যবহার করুন।