আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা আর মুষলধারে বৃষ্টি মানেই ভেজা, পিচ্ছিল রাস্তা আর দুর্ঘটনার বাড়তি ঝুঁকি। এই মৌসুমে রাস্তায় গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখা চালকদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। আর বর্ষায় নিরাপদ ভ্রমণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অবহেলিত অনুষঙ্গটি হলো গাড়ির টায়ার এবং এর ভেতরের বায়ুর চাপ বা প্রেশার। সামান্য অসতর্কতায় পিচ্ছিল রাস্তায় গাড়ি স্কিড করে ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। তাই বর্ষার দিনে টায়ারের সুরক্ষায় সঠিক নিয়ম জানা ও মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
বর্ষায় টায়ারের হাওয়া কেমন হওয়া উচিত?
সাধারণত গাড়ির জন্য ৩০ থেকে ৩৫ পিএসআই (PSI) বাতাসের চাপ বা প্রেশার আদর্শ হিসেবে ধরা হয়। তবে বর্ষার দিনে সামান্য কৌশল বদলে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
বৃষ্টির সময় ভেজা ও পিচ্ছিল রাস্তায় টায়ারের গ্রিপ (রাস্তার সাথে কামড়ে ধরে রাখার ক্ষমতা) ভালো পাওয়ার জন্য ম্যানুফ্যাকচারারের নির্ধারিত চাপের চেয়ে ২ থেকে ৩ পিএসআই হাওয়া কম রাখা বেশি সুবিধাজনক।
টায়ারে কিছুটা হাওয়া কম থাকলে রাস্তার সাথে টায়ারের স্পর্শের ক্ষেত্র বা সারফেস কন্টাক্ট বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ভেজা রাস্তায় হঠাৎ ব্রেক কষলেও গাড়ি পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।
টিপস: প্রতিটি গাড়ি ও টায়ারের ধরন যেহেতু ভিন্ন, তাই আপনার গাড়ির সঠিক প্রেশার জানতে ড্রাইভিং সিটের দরজার ফ্রেমে থাকা ম্যানুফ্যাকচারার স্টিকার বা গাড়ির ‘ওনার্স ম্যানুয়াল’ দেখে নিন।
অতিরিক্ত হাওয়া বনাম খুব কম হাওয়া: ঝুঁকি কোথায়?
অতিরিক্ত বাতাসের ক্ষতি: টায়ারে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হাওয়া থাকলে টায়ারের মাঝের অংশ স্ফীত হয়ে যায়। এতে রাস্তার সাথে টায়ারের সংযোগ কমে যায় এবং ভেজা রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি যেকোনো মুহূর্তে স্কিড করতে পারে।
খুব বেশি কম বাতাসের ক্ষতি: অন্যদিকে হাওয়া অনেক বেশি কম থাকলে টায়ারের সাইডওয়াল দ্রুত ক্ষয়ে যায়, মাইলেজ বা জ্বালানি দক্ষতা কমে এবং স্টিয়ারিং ঘোরাতে অতিরিক্ত শক্ত অনুভব হয়।
বর্ষায় টায়ারের সুরক্ষায় অতিরিক্ত সতর্কতা
নিয়মিত প্রেশার চেক: বর্ষাকালে পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা কম থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবেই টায়ারের ভিতরের প্রেশার বা বায়ুর চাপ কিছুটা কমে যেতে পারে। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার টায়ারের হাওয়া মেপে দেখা উচিত।
টিপিএমএস (TPMS) প্রযুক্তির ব্যবহার: আধুনিক অনেক গাড়িতেই ‘টায়ার প্রেশার মনিটরিং সিস্টেম’ বা TPMS থাকে, যা প্রেশার কমে গেলে ড্যাশবোর্ডে সংকেত দেয়। আপনার গাড়িতে এই প্রযুক্তি না থাকলে প্রতিবার জ্বালানি নেওয়ার সময় পেট্রোল পাম্প বা নিকটস্থ সার্ভিস সেন্টার থেকে প্রেশার চেক করিয়ে নিন।
টায়ারের ট্রেড (Tread) পরীক্ষা: হাওয়া ঠিক রাখার পাশাপাশি টায়ারের গ্রুভ বা খাঁজগুলো যথেষ্ট গভীর আছে কি না তা দেখে নিন। ক্ষয়ে যাওয়া মসৃণ টায়ারে বর্ষায় হাওয়া কম-বেশি করেও দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন।
বর্ষার ভেজা ও পিচ্ছিল রাস্তায় সামান্য একটি অসাবধানতাও বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। তাই এই বর্ষায় শুধু গতি নিয়ন্ত্রণই নয়, যাত্রার শুরুতেই গাড়ির টায়ারের প্রেশার ও সামগ্রিক অবস্থা ভালোভাবে পরখ করে নিন। সঠিক সময়ে টায়ারের যত্ন ও প্রেশারের সঠিক ভারসাম্যই পারে বর্ষার দিনে আপনার ও আপনার পরিবারের ভ্রমণকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও আনন্দদায়ক রাখতে।