Sunday 05 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নিয়ামত বৃদ্ধি ও জান্নাত লাভের চাবিকাঠি ‘আলহামদুলিল্লাহ’

সারাবাংলা ডেস্ক
৫ জুলাই ২০২৬ ১৬:২৯

‘আলহামদুলিল্লাহ’ একটি অত্যন্ত বরকতময় ও প্রশংসাসূচক পবিত্র বাক্য, যার অর্থ, যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য। পবিত্র কোরআনের সূচনা এই শব্দটির মাধ্যমেই হয়েছে, যা এর অসীম গুরুত্ব ও তাৎপর্যের বহিঃপ্রকাশ। একজন বিশ্বাসীর দৈনন্দিন জীবনে এই আমলটির ফজিলত ও প্রভাব অপরিসীম।

আসুন জেনে নেই, ‘আলহামদুলিল্লাহ’র ফজিলত ও অনন্য প্রভাব…

সৃষ্টির সেরা প্রার্থনা ও ওজনের পাল্লা

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, সৃষ্টিকর্তার মহিমা কীর্তনে এর চেয়ে উত্তম কোনো বাক্য নেই। হাদিসের বর্ণনা মতে, ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ যেমন শ্রেষ্ঠ জিকির, তেমনি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ হলো সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দোয়া। মহানবী (সা.) জানিয়েছেন, এই একটি বাক্য হাশরের ময়দানে মানুষের সৎকাজের পাল্লা বা মিজানকে পুরোপুরি পূর্ণ করে দেয়। এমনকি আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী শূন্যস্থানও এর সওয়াব দ্বারা পূর্ণ হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

পার্থিব জগতের চেয়েও মূল্যবান উপহার

মানুষ যদি গোটা পৃথিবীর সব ঐশ্বর্য ও সম্পদের মালিক বনে যায়, আর তার বিপরীতে মাত্র একবার আন্তরিকভাবে আল্লাহর প্রশংসা করে, তবে সেই প্রশংসা বাক্যটি পুরো দুনিয়ার চেয়েও বেশি কল্যাণকর। কারণ এই নশ্বর পৃথিবীর সবকিছু একদিন ধুলোয় মিশে যাবে, কিন্তু আল্লাহর দরবারে করা শুকরিয়ার সওয়াব ও প্রতিদান চিরকাল অম্লান থাকবে।

প্রাচুর্য ও নিয়ামত বৃদ্ধির অমোঘ মাধ্যম

এই পবিত্র বাক্যটি মূলত মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। আর কৃতজ্ঞ বান্দাদের জন্য আল্লাহর বিশেষ প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা ইবরাহিমে ঘোষণা করা হয়েছে, যদি মানুষ নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে, তবে আল্লাহ সেই নিয়ামত আরও বাড়িয়ে দেন। আহার গ্রহণ, পানীয় পান, হাঁচি দেওয়া কিংবা যেকোনো শুভ কাজ শেষে এই তাসবিহ পাঠ করলে আল্লাহ সেই বান্দার ওপর অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন।

কঠিন বিপদেও জান্নাতি পুরস্কারের নিশ্চয়তা

কেবল সুখের দিনেই নয়, বরং জীবনের চরমতম দুঃখ ও সংকটেও যারা আল্লাহর প্রতি আস্থা হারায় না, তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ উপহার। হাদিস অনুযায়ী, কোনো পিতামাতা যদি তাদের সন্তান হারানোর মতো চরম বেদনার মুহূর্তেও ধৈর্য ধরে আল্লাহর প্রশংসা করে, তখন মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের নির্দেশ দেন জান্নাতে সেই বান্দার জন্য একটি বিশেষ প্রাসাদ তৈরি করতে, যার নাম রাখা হয় ‘বায়তুল হামদ’ বা প্রশংসা ভবন।

ব্যাধি থেকে মুক্তির পর নিষ্পাপ জীবনের সূচনা

অসুস্থতা বা শারীরিক কষ্টের সময়েও যারা বিচলিত না হয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ধ্বনি উচ্চারণ করে, তাদের জন্য হাদিসে কুদসিতে বিশেষ সুসংবাদ রয়েছে। মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, রোগাক্রান্ত অবস্থায় যে বান্দা আল্লাহর প্রশংসা করবে, সে রোগশয্যা থেকে ওঠার সময় এমনভাবে গুনাহমুক্ত হয়ে উঠবে, যেন আজই সে মাতৃগর্ভ থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ হয়েছে।

জান্নাতবাসীদের চিরন্তন স্লোগান

পবিত্র কোরআনের সুরা আরাফে বলা হয়েছে, সফলকাম মানুষ যখন সব পরীক্ষা পার হয়ে চূড়ান্ত পুরস্কার হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন চারপাশের অপূর্ব নিয়ামত দেখে তাদের মুখ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিঃসৃত হবে আল্লাহর প্রশংসা। তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি আমাদের এই পরম শান্তির ঠিকানায় পৌঁছে দিয়েছেন।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর