ভার্চুয়াল যোগাযোগের এই ব্যস্ত সময়ে আমাদের প্রতিদিনের সুখ-দুঃখ, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, ভয়েস মেসেজ কিংবা ছবি জমা থাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে। অনেক সময় পুরোনো কোনো দরকারি তথ্য বা ফাইল খুঁজতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাট স্ক্রল করতে হয়, যা বেশ বিরক্তিকর। এছাড়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া, হুট করে আইডি ডিজেবল হওয়া বা কারিগরি ত্রুটির কারণে যেকোনো মুহূর্তে এই মূল্যবান ডেটা চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তবে ফেসবুকের নিজস্ব সিকিউরিটি ফিচারের মাধ্যমেই মেসেঞ্জারের পুরো চ্যাট হিস্ট্রি ব্যাকআপ হিসেবে নিজের ফোনে বা কম্পিউটারে ডাউনলোড করে রাখা যায়।
আসুন জেনে নেই, মেসেঞ্জারের পুরোনো চ্যাট ও স্মৃতি সংরক্ষণের সহজ ও নিরাপদ উপায়…
মেসেঞ্জার চ্যাট ব্যাকআপ নেওয়ার সহজ ধাপসমূহ
ধাপ ১ (সেটিংস অপশন): প্রথমে আপনার স্মার্টফোন বা ডেস্কটপ থেকে ফেসবুক অ্যাপ ওপেন করুন। এরপর প্রোফাইল আইকনে ট্যাপ করে ‘Settings & Privacy’ থেকে ‘Settings’ অপশনে প্রবেশ করুন।
ধাপ ২ (অ্যাকাউন্টস সেন্টার): মেটা-র নতুন ইন্টারফেসে সব সেটিংস এখন এক জায়গায়। তাই স্ক্রিনের ওপরের দিকে থাকা ‘Accounts Center’-এ ক্লিক করুন। এরপর নিচে স্ক্রল করে ‘Your Information and Permissions’ অপশনটি বেছে নিন।
ধাপ ৩ (রিকোয়েস্ট সাবমিট): এবার ‘Download or Transfer Information’ অপশনে ট্যাপ করুন। এরপর আপনার কাঙ্ক্ষিত ফেসবুক প্রোফাইলটি সিলেক্ট করে ‘Specific Information’ অপশনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৪ (মেসেজ অপশন সিলেক্ট): এখানে ফেসবুকের সব ডেটা ডাউনলোড করার দরকার নেই। তালিকা থেকে শুধু ‘Messages’ অপশনটির পাশের বক্সে টিক চিহ্ন দিন। আপনি চাইলে সব চ্যাট একসাথে অথবা নির্দিষ্ট কোনো প্রিয় মানুষের চ্যাট আলাদাভাবে সিলেক্ট করতে পারেন।
ধাপ ৫ (মিডিয়া কোয়ালিটি ও ফরম্যাট): এবার ফাইলের ফরম্যাট হিসেবে ‘HTML’ সিলেক্ট করুন (এটি যেকোনো ব্রাউজারে সহজে ওপেন করা যায়)। এরপর ‘Date Range’ অপশনে গিয়ে ‘All Time’ অথবা আপনার সুবিধাজনক সময় নির্ধারণ করে ‘Submit Request’-এ ক্লিক করুন।
ধাপ ৬ (ফাইল ডাউনলোড): আপনার তথ্যের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ফেসবুক ফাইলটি তৈরি করতে কিছুটা সময় নেবে। ফাইলটি প্রস্তুত হয়ে গেলে ফেসবুক আপনাকে নোটিফিকেশন বা ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে। তখন পুনরায় সেই লিংকে গিয়ে আপনার ফেসবুকের পাসওয়ার্ডটি দিয়ে জিপ (ZIP) ফাইলটি ডাউনলোড করে নিন।
সতর্কবার্তা
ডাউনলোড করা ফাইলটিতে আপনার জীবনের বহু ব্যক্তিগত তথ্য ও মেসেজ রয়েছে। তাই ফাইলটি আনজিপ করার পর তা অবশ্যই কোনো সুরক্ষিত পেনড্রাইভ, গুগল ড্রাইভ বা পাসওয়ার্ড-লকড ফোল্ডারে রাখুন, যেন অন্য কারো হাতে আপনার ব্যক্তিগত চ্যাট হিস্ট্রি চলে না যায়।