Monday 25 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হজের পাঁচ দিনে কি কি করেন হজ পালনকারীরা?

সারাবাংলা ডেস্ক
২৫ মে ২০২৬ ১৭:০৮

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আল্লাহর মেহমানদের জন্য জিলহজ মাসের ৮ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত এই পাঁচ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনগুলোতে হজের প্রধান প্রধান রোকন ও ওয়াজিব পালন করতে হয়।

আসুন জেনে নেই হজের এই পাঁচ দিনের যাবতীয় আমল ও কার্যক্রমগুলো…

৮ জিলহজ: মিনায় যাত্রা ও অবস্থান

হজের মূল কার্যক্রমের প্রথম দিন এটি। যদি আপনি তামাত্তু বা ইফরাদ হজ পালনকারী হয়ে থাকেন, তবে মক্কার বাসা বা হারাম শরিফ থেকে নতুন করে হজের নিয়তে ইহরাম পরিধান করবেন। আর যারা কিরান হজ করছেন, তারা আগের ইহরাম অবস্থাতেই থাকবেন।

করণীয়: ৮ জিলহজ জোহরের নামাজের আগেই মিনায় পৌঁছে যাওয়া সুন্নাত। মিনায় পৌঁছে জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং পরদিন অর্থাৎ ৯ জিলহজের ফজরসহ মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সেখানে আদায় করবেন এবং মিনায় রাত যাপন করবেন।

বিজ্ঞাপন

৯ জিলহজ: আরাফাতের ময়দানে অবস্থান ও মুজদালিফায় রাতযাপন

এই দিনটি হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন, কারণ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের প্রধান ফরজ (রোকন)।

করণীয়: মিনায় ফজরের নামাজ আদায় করে গোসল বা অজু সেরে নিন। একবার তাকবিরে তাশরিক (আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার; ওয়া লিল্লাহিল হামদ) পাঠ করে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা হোন। জোহরের আগেই সেখানে উপস্থিত হওয়া নিয়ম। দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগি ও কান্নাকাটি করুন। নিজ নিজ তাঁবুতে জোহর ও আসরের নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আলাদাভাবে আদায় করবেন।

মুজদালিফায় যাত্রা: সূর্যাস্তের পর আরাফাতে মাগরিবের নামাজ না পড়ে মুজদালিফার দিকে রওনা হতে হবে। মুজদালিফায় পৌঁছে ইশার সময়ে এক আজান ও এক ইকামতে মাগরিব ও ইশা নামাজ একত্রে আদায় করুন। এখানে রাতযাপন করা সুন্নাত এবং ফজরের পর থেকে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত কিছু সময় অবস্থান করা ওয়াজিব। মিনায় শয়তানকে মারার জন্য এখান থেকেই ৭০টি ছোট ছোট কাঁকর (কংকর) সংগ্রহ করে নিন।

(মনে রাখবেন, ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব)।

১০ জিলহজ: বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন

এই দিন হাজিদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ পর পর সম্পন্ন করতে হয়।

করণীয়: মুজদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে সূর্য ওঠার আগেই মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হোন। মিনায় পৌঁছে কেবল ‘বড় জামারা’ বা বড় শয়তানকে লক্ষ্য করে ৭টি কাঁকর নিক্ষেপ করুন। এরপর দমে শোকর বা হজের কোরবানি সম্পন্ন করুন। কোরবানি শেষ হলে পুরুষরা মাথা মুণ্ডন করবেন বা চুল ছাঁটবেন, আর নারীরা চুলের অগ্রভাগ থেকে মাত্র এক ইঞ্চি পরিমাণ কেটে নেবেন। চুল কাটার পর ইহরামের নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে (শুধু স্ত্রী সঙ্গম ছাড়া)।

(মনে রাখবেন, ১০ জিলহজ কাঁকর নিক্ষেপ, কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন—এই তিনটি কাজ এই ধারাবাহিকতা মেনেই করা ওয়াজিব)।

১১ জিলহজ: তিন শয়তানকে পাথর মারা ও তাওয়াফে জিয়ারত

করণীয়: ১১ জিলহজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর থেকে তিন শয়তান বা জামারাতেই (ছোট, মধ্যম ও বড়) ৭টি করে মোট ২১টি কাঁকর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব। প্রথমে ছোট, তারপর মধ্যম এবং সবশেষে বড় শয়তানকে পাথর মারতে হবে। যদি কারও ১০ তারিখের কোরবানি বা কাবা শরিফের ‘তাওয়াফে জিয়ারত’ (ফরজ তাওয়াফ) বাকি থাকে, তবে তা এই দিনে সম্পন্ন করে নিতে পারেন।

১২ জিলহজ: শেষ দিনের পাথর নিক্ষেপ ও মিনা ত্যাগ

করণীয়: ১১ তারিখের মতো এই দিনও জোহরের পর থেকে তিনটি জামারাতে ৭টি করে মোট ২১টি কাঁকর নিক্ষেপ করতে হবে। যদি কারও ফরজ তাওয়াফে জিয়ারত বাকি থাকে, তবে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগেই তা সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। যারা ১৩ জিলহজ মিনায় থাকতে চান না, তারা ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগেই মিনা ত্যাগ করবেন। তবে কেউ যদি ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পর ও ১৩ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগে মিনায় অবস্থান করেন, তবে ১৩ জিলহজও তিনটি জামারাতে আরও ৭টি করে কাঁকর নিক্ষেপ করে তারপর মিনা ত্যাগ করতে হবে।