প্রতিটি নারীর ভেতরেই লুকিয়ে থাকে এক একজন রানি বা রাজকুমারী। দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা, ঘর-সংসার কিংবা অফিসের কাজের চাপে সেই সুপ্ত সত্ত্বাকে আমরা অনেকেই ভুলে থাকি। কিন্তু বছরে এমন একটি দিন আসে, যা প্রতিটি নারীকে মনে করিয়ে দেয় যে তিনি অনন্য এবং বিশেষ। আজ ২৪ মে, আন্তর্জাতিক টিয়ারা দিবস (International Tiara Day)। হিরের কুঁচি আর রত্নখচিত যে রাজকীয় মুকুট বা ‘টিয়ারা’ আমরা সাধারণত রাজপরিবারের সদস্যদের মাথায় দেখে অভ্যস্ত, আজকের দিনটি সাধারণ নারীদেরও সেই আভিজাত্য উদযাপনের সুযোগ করে দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে ফ্যাশন দুনিয়ায় দিনটি বেশ সাগ্রহে এবং মজার ছলে উদযাপন করা হয়। তবে কেবলই মজার ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে নয়, এর পেছনে রয়েছে এক দারুণ ইতিহাস এবং নারীর আত্মমর্যাদার এক অনন্য বার্তা।
ইতিহাসের পাতা ঘেঁটে জানা যায়, এই বিশেষ দিবসটি পালনের পেছনে জড়িয়ে আছেন ব্রিটেনের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী এবং দীর্ঘ সময় শাসন করা রানি ভিক্টোরিয়া। ১৮১৯ সালের ২৪ মে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই রানি। তার এই জন্মদিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং নারীর ক্ষমতায়নকে এক অভিনব উপায়ে উদযাপন করতেই আন্তর্জাতিক টিয়ারা দিবসের সূচনা হয়। টিয়ারা শব্দের উৎপত্তি মূলত প্রাচীন পারস্য থেকে, যেখানে রাজকীয় ব্যক্তিরা মাথায় এক ধরনের বিশেষ অলঙ্কার পরতেন। পরবর্তীতে গ্রিক ও রোমান সভ্যতায় এর ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে। প্রাচীনকালে টিয়ারা কেবল রাজবংশের প্রতীক হলেও, আধুনিক যুগে এসে এটি প্রতিটি নারীর ভেতরের শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদার প্রতীকে রূপান্তরিত হয়েছে। আজকের দিনে বিশ্বের বহু দেশে নারীরা স্রেফ মজার ছলে কিংবা নিজেদের একটু স্পেশাল ফিল করাতে প্লাস্টিক, মেটাল বা পাথরের টিয়ারা মাথায় পরে ঘরোয়া আড্ডায় মাতেন কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করেন।
আপনার মাথায় সত্যিকারের হিরের মুকুট না থাকলেও, নিজের আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে আপনি নিজেই নিজের জীবনের রানি। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা বলেন, টিয়ারা কেবল একটি গহনা নয়, এটি পরার সাথে সাথে একজন মানুষের শারীরিক অঙ্গভঙ্গি এবং আত্মবিশ্বাস এক নিমেষে বদলে যায়। বিয়ের কনে থেকে শুরু করে জন্মদিনের পার্টি, যেকোনো উৎসবের ফ্যাশনে এখন টিয়ারা বেশ জনপ্রিয় অনুষঙ্গ। তাই আজ আন্তর্জাতিক টিয়ারা দিবসে কোনো রাজকীয় প্রোটোকলের তোয়াক্কা না করে, নিজের ভেতরের রাজকুমারী সত্ত্বাকে জাগিয়ে তুলুন। একটি সাধারণ টিয়ারা মাথায় জড়িয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বলুন, ‘আপনিই সেরা!’