বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খান এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এক মানবিক কারণে সংবাদমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। রুপালি পর্দার অভিনয়ের ব্যস্ত সময় পার করার মাঝেও এই তারকা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের সমাজসেবামূলক উদ্যোগে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তিনি মুম্বাইয়ের বস্তি পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ৫০ জনেরও বেশি সুবিধাভোগী মানুষের হাতে নতুন স্থায়ী বাসস্থানের চাবি তুলে দিয়েছেন। শুক্রবার রাতে একটি শুভেচ্ছা সফরের অংশ হিসেবে সালমান খান মুম্বাইয়ের বস্তি পুনর্বাসন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনে যান। সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি সংস্থাটির সম্পূর্ণ নতুন ডেটা সংগ্রহ ও সত্যতা যাচাইকরণ সহায়তা কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার পাশাপাশি অত্যন্ত আধুনিক একটি তথ্যপ্রযুক্তি সার্ভার কক্ষের দ্বার উন্মোচন করেন।
বস্তি পুনর্বাসন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডক্টর মহেন্দ্র কল্যাণকরের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে পুনর্বাসন প্রকল্পের উপকারভোগীদের হাতে যখন সালমান খান চাবি তুলে দিচ্ছিলেন, তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজেদের একটি স্থায়ী ও নিরাপদ বাসস্থানের চাবি হাতে পেয়ে উপস্থিত সুবিধাভোগী সাধারণ মানুষ আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। এই মানবিক উদ্যোগের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে সংস্থাটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি নতুন কফি টেবিল বইয়ের মোড়কও উন্মোচন করেন এই অভিনেতা। আকর্ষণীয় এই বইটিতে উক্ত সংস্থার বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক প্রকল্প, সফল পুনর্বাসনের বাস্তব ইতিহাস, উল্লেখযোগ্য নানাবিধ অর্জন এবং আগামী দিনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, এই নতুন তথ্যপ্রযুক্তি সার্ভার কক্ষটি চালু হওয়ার ফলে পুনর্বাসন কর্তৃপক্ষের সামগ্রিক ডিজিটাল সেবার মান আরও বেশি নিরাপদ, স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে ই-গভর্ন্যান্স বা বৈদ্যুতিন শাসন কার্যক্রমের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য সেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে। পরিদর্শনের সময় সালমান খানকে সংস্থার বিভিন্ন চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পুনর্বাসন প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য অবহিত করা হলে তিনি এই মহৎ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। আয়োজকদের মতে, সালমান খানের মতো একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি এই আধুনিক ও জনবান্ধব পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও বেশি গতিশীল ও উৎসাহিত করবে, যা সরকারের এই ইতিবাচক উদ্যোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে একটি সুন্দর বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।
জনহিতকর এই কাজের পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও সালমান খানের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে রয়েছে। বর্তমানে তিনি তার অভিনীত নতুন চলচ্চিত্র ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’ এর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। এই বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্রটির পাশাপাশি তিনি আরও বেশ কয়েকটি নতুন নতুন কাজ ও প্রকল্প নিয়ে গভীরভাবে ব্যস্ত রয়েছেন, যেগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই দর্শকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।