বিনোদন জগতের অবিসংবাদিত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় পর আবারও বিশ্ব বিনোদন অঙ্গনে এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন ঝড় তুলেছে তার জীবনীভিত্তিক নতুন চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’। বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি একের পর এক নতুন রেকর্ড তৈরি করে চলেছে এবং সাম্প্রতিকতম হিসাব অনুযায়ী এর মোট আয় ইতিমধ্যেই ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের এক বিশাল মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। লিয়ন্সগেটের ব্যানারে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি এখন বিশ্ব চলচ্চিত্রের দীর্ঘ ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয়কারী বায়োপিক বা জীবনীভিত্তিক সিনেমার তালিকায় আভিজাত্যের শীর্ষস্থানটি দখল করে নিয়েছে। বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যান্টোনি ফুকা পরিচালিত এই দুর্দান্ত সিনেমার মাধ্যমে রূপালি পর্দায় ও অভিনয় জগতে অভিষেক ঘটেছে স্বয়ং মাইকেল জ্যাকসনের নিজের আপন ভাতিজা জাফর জ্যাকসনের, যার চমৎকার অভিনয় ও উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মাঝে এক দারুণ সাড়া ফেলেছে।
এই ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন মাইলফলক স্পর্শ করার আগে ‘মাইকেল’ সিনেমাটি বক্স অফিসের আরও বেশ কিছু বড় বড় ও নামী রেকর্ড সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। শত কোটি ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করার এই যাত্রাপথে চলচ্চিত্রটি প্রথমে বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ফ্রেডি মার্কারিকে নিয়ে ২০১৮ সালে নির্মিত জনপ্রিয় বায়োপিক ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র ৯১১ মিলিয়ন ডলারের আকাশচুম্বী আয়ের রেকর্ডটিকে অনেক পেছনে ফেলে দেয়। এর ঠিক কিছুদিন পরেই এটি বিশ্বখ্যাত পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের অস্কারজয়ী ব্লকবাস্টার হিট সিনেমা ‘ওপেনহাইমার’কে অত্যন্ত সাফল্যের সাথে টপকে যায়, যা প্রেক্ষাগৃহে ৯৭৭ মিলিয়ন ডলারের বিশাল ব্যবসা করে এতদিন পর্যন্ত ইতিহাসের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছিল। মার্কিন অন্যতম শীর্ষ প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো স্বাধীন বা ইনডিপেনডেন্ট স্টুডিওর দ্বারা নির্মিত ও পরিবেশিত প্রথম সিনেমা হিসেবে বক্স অফিসে ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের এক অভূতপূর্ব নতুন ইতিহাস তৈরি করলো এই সিনেমা।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো এই প্রজেক্টটির শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি বড় বড় নামী চলচ্চিত্র স্টুডিও এর পেছনে অর্থায়ন করতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, কিন্তু লিয়ন্সগেট স্টুডিও এক বিশাল ব্যবসায়িক ঝুঁকি নিয়ে ইউনিভার্সাল পিকচার্স ও কিনো ফিল্মসের সঙ্গে যৌথভাবে সিনেমাটি প্রযোজনা করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের সেই সুদূরপ্রসারী ও সাহসী সিদ্ধান্তই আজ শেষ পর্যন্ত বিনোদন ইতিহাসের এক বিশাল ও অবিস্মরণীয় ব্যবসায়িক সাফল্যে রূপ নিল। চলচ্চিত্র সমালোচকদের কাছ থেকে সিনেমাটি কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও বিশ্বের আপামর ও সাধারণ দর্শকদের মন পুরোপুরি জয় করে নিয়েছে। বর্তমান সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় রিভিউ ওয়েবসাইট ‘রটেন টম্যাটোস’-এ নামী সমালোচকদের গড় রেটিং মাত্র ৪০ শতাংশের কাছাকাছি হলেও সাধারণ দর্শকদের রেটিং ছিল প্রায় ৯৭ শতাংশের মতো অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই বা ওপেনিং উইকেন্ডেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ২১৭ মিলিয়ন ডলার আয় করে সিনেমাটি এক অনন্য রেকর্ড গড়েছিল, যা যেকোনো মিউজিক্যাল বায়োপিকের ইতিহাসে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ওপেনিং। দর্শকদের এমন অভূতপূর্ব ইতিবাচক সাড়া ও ভালোবাসার ওপর ভর করেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির মাত্র প্রায় তিন মাসের মাথায় ১ বিলিয়ন ডলারের এই অভিজাত ক্লাবে অত্যন্ত রাজকীয়ভাবে প্রবেশ করলো ‘মাইকেল’।