দেশীয় প্রেক্ষাগৃহে দর্শক এবং চলচ্চিত্র সমালোচকদের মন জয় করার পর এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করছে পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘রইদ’। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফলভাবে প্রদর্শিত হওয়ার পর এবার সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।
চলচ্চিত্র পরিবেশনা সংস্থা বায়োস্কোপ ফিল্মস জানিয়েছে যে আজ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্যের মোট ৩১টি শহরে ‘রইদ’ প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে। এর ফলে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রপ্রেমীরাও বড় পর্দায় এই সিনেমাটি দেখার সুযোগ পাবেন। এই বৈশ্বিক মুক্তি দেশের স্বাধীনধারার চলচ্চিত্রের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
পবিত্র কোরবানির ঈদে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল ‘রইদ’। মুক্তির শুরু থেকেই সিনেমাটির গল্প, অনন্য নির্মাণশৈলী, চমৎকার চিত্রগ্রহণ এবং অভিনয় শিল্পীদের পারফরম্যান্স চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের কাছ থেকে দারুণ প্রশংসা কুড়ায়। মুক্তির বেশ কয়েক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও দেশের বিভিন্ন আধুনিক সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটির প্রদর্শনী সগৌরবে চলছে, যা মূলত সাধারণ দর্শকদের গভীর আগ্রহেরই প্রমাণ।
এই সিনেমার মূল দুটি কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান এবং নাজিফা তুষি। রূপালি পর্দায় তাদের অনবদ্য অভিনয় ও রসায়ন দর্শকদের আবেগ ছুঁয়ে গেছে, যার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্র বিষয়ক আলোচনা সভায়।
নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের ক্যারিয়ারে ‘রইদ’ নতুন একটি সাফল্যের পালক যুক্ত করল। এর আগেও তার নির্মিত কাজ দেশ ও দেশের বাইরে সমাদৃত হয়েছে। বর্তমান সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রের ধারায় ‘রইদ’ একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আলোচিত সংযোজন হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মনে করছেন যে অস্ট্রেলিয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশাল ও প্রভাবশালী বাজারে ‘রইদ’ সিনেমার এই আত্মপ্রকাশ বাংলাদেশের সিনেমার আন্তর্জাতিক বিস্তৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে শুধু প্রবাসী বাঙালিরাই নন, বরং ভিন্ন ভাষাভাষী দর্শকদের কাছেও বাংলা সিনেমা পৌঁছানোর একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
পরিবেশক সংস্থা বায়োস্কোপ ফিল্মস আরও ইঙ্গিত দিয়েছে যে আন্তর্জাতিক বাজারে সিনেমাটির এই চমৎকার যাত্রা এখানেই শেষ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই বড় উদ্যোগের পর ভবিষ্যতে পৃথিবীর আরও নতুন নতুন দেশে ‘রইদ’ প্রদর্শনের জোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।