বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে ভারতের অবস্থান এবং সার্বভৌমত্ব নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রীতিমতো অগ্নিশর্মা দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার মেগাস্টার কমল হাসান। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট সামাল দিতে ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে সাময়িক ‘ছাড়’ বা ‘অনুমতি’ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ‘অভিভাবকসুলভ’ আচরণকেই একহাত নিলেন এই অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই ভারতকে সাময়িকভাবে রাশিয়া থেকে তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ উগরে দেন কমল হাসান। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, ভারত একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত অন্য কোনো দেশের হুকুমদারির ধার ধারে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে কমল হাসান তার পোস্টে পরামর্শ দেন, ট্রাম্প যেন অন্য দেশের বিষয়ে নাক না গলিয়ে বরং ‘নিজের চরকায় তেল দেন’। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ভারতীয়রা আর ব্রিটিশ আমলের মতো বিদেশিদের হুকুম শোনে না। সার্বভৌম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় থাকলেই যে দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বশান্তি সম্ভব, সেই বার্তাও তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্যে ছুড়ে দিয়েছেন।
ভারত ও আমেরিকার এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে কমল হাসানের এমন সাহসী এবং জাতীয়তাবাদী অবস্থান দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের বিপরীতে তার এই কড়া প্রতিক্রিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। নিজের দেশ ও নাগরিকদের শান্তি কামনার পাশাপাশি অন্যের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানোর এই আহ্বান কমল হাসানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞারই পরিচয় দিচ্ছে বলে মনে করছেন তার অনুগামীরা।