সরকার চাইলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও টানা ১৬ বছরের শাসন-বাস্তবতা নিয়ে অসমাপ্ত চলচ্চিত্রগুলো বাকি থাকা স্ক্রিপ্ট থেকে নির্মাণ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন নির্মাতা ও সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি বলেন, ঘোষিত আটটি চলচ্চিত্রের মধ্যে পাঁচটির কাজ শেষ হয়নি ঠিকই, তবে প্রকল্পটি থেমে যায়নি; বরং ওই সময়েই নির্মিত হয়েছে ২১টি ডকুমেন্টারি, যা অনলাইনে ও সারা দেশে প্রদর্শনের মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
ফারুকীর ব্যাখ্যায়, ‘রিমেম্বারিং মনসুন রেভোল্যুশন’ প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল দুইটি বিভাগীয় পর্যায়ে তরুণ নির্মাতাদের নিয়ে ওয়ার্কশপ আয়োজন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও দীর্ঘ শাসনপর্বের অভিজ্ঞতাকে চলচ্চিত্রে সংরক্ষণ করা। আটটি চলচ্চিত্রের পরিকল্পনার মধ্যে দুইটি ডকুমেন্টারি ও একটি কাহিনিচিত্রের কাজ শেষ হয়েছে, যেগুলো প্রিভিউ শেষে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বাকি পাঁচটির স্ক্রিপ্ট রিভিউ কমিটির কাছে জমা পড়ে এবং সেগুলো নিয়ে মন্ত্রণালয়ে মতামতও দেওয়া হয়।
তিনি জানান, পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই পুনর্জাগরণ কর্মসূচি ঘোষণা হলে তাদের ওপর আন্দোলন ও দুঃশাসনের প্রেক্ষাপট নিয়ে ধারাবাহিক ডকুমেন্টারি নির্মাণের দায়িত্ব আসে। সেই প্রেক্ষিতে একুশটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়, যেগুলোর বেশিরভাগই ইতোমধ্যে দর্শকের কাছে পৌঁছেছে এবং ব্যাপক ভিউ অর্জন করেছে। ঘটনাপ্রবাহের খুব কাছাকাছি অবস্থান করার কারণে সে সময় ফিকশনধর্মী স্ক্রিপ্টগুলো নির্মাতাদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফারুকীর ভাষ্য, কেবল ঘোষণার দায়ে বিপুল অর্থ ব্যয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা সমীচীন হতো না, তাই স্ক্রিপ্টগুলো আরও পরিমার্জনের জন্য রিভিউতে রাখা হয়। এদিকে দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় প্রকল্পের বাকি অংশ আর এগোয়নি। তবে বর্তমান সরকার আগ্রহী হলে সেই স্ক্রিপ্টগুলো থেকেই নতুন করে চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব এমনটিই মনে করেন তিনি।