গাইবান্ধা: গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়ার মেয়ে সুরাইয়া তাছনিন সাথী। এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী তিনি। ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। সেই আগ্রহ থেকেই চলচ্চিত্র নির্মাণে পথচলা। আর প্রথম কাজেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এনে দিলেন গৌরবময় সাফল্য।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন শহরে গত ১ ও ২ মে অনুষ্ঠিত হয় ‘১৩তম আন্তর্জাতিক কানেক্টহার চলচ্চিত্র উৎসব’। বিশ্বের ২৬টি দেশের ১৮৪টি চলচ্চিত্র অংশ নেয় এ উৎসবে। সেখানে ‘ওমেন অ্যান্ড ওয়ার্ক’ ক্যাটাগরিতে সেরা পুরস্কার অর্জন করে সাথীর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘রেশমা: অ্যা স্ট্রাগল ফর আইডেন্টিটি’।
সুরাইয়া তাছনিন সাথী গাইবান্ধার আসাদুজ্জামান গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। তার বাবার নাম শফিকুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া এই চলচ্চিত্রটিই তার নির্মিত প্রথম প্রামাণ্যচিত্র।
জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নভেরা হাসান নিক্কণের তত্ত্বাবধানে গাইবান্ধা সরকারি কলেজে আয়োজিত চলচ্চিত্রবিষয়ক একটি ওয়ার্কশপে অংশ নেন সাথী। পরে ‘কানেক্টহার’ ফেলোশিপের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণের কারিগরি ও সৃজনশীল নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়ে নির্মাণ করেন ‘রেশমা: অ্যা স্ট্রাগল ফর আইডেন্টিটি’।
সাথীর বড় ভাই ও নাট্যকর্মী শুভ আকন্দ জানান, বগুড়ার শেরপুরের নারী উদ্যোক্তা সুরাইয়া ফারহানা রেশমার জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে এই প্রামাণ্যচিত্র। একজন নারীর পরিচয় প্রতিষ্ঠার লড়াই, সংগ্রাম ও আত্মবিশ্বাসের গল্প এতে তুলে ধরা হয়েছে।
সুরাইয়া তাছনিন সাথী বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি আমার আলাদা আকর্ষণ ছিল। সেই ইচ্ছা থেকেই কানেক্টহার ফেলোশিপের মাধ্যমে চলচ্চিত্রবিষয়ক প্রশিক্ষণে অংশ নিই। প্রথম কাজেই এমন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে আমি ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে পড়তে চাই।’
এদিকে সাথীর এমন অর্জনে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। সাংস্কৃতিককর্মীরা বলছেন, মফস্বল শহরের একজন তরুণ শিক্ষার্থীর আন্তর্জাতিক সাফল্য নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল কাজে আরও উৎসাহিত করবে।
প্রবীণ নাট্য নির্মাতা সৈয়দ নুরুল আলম জাহাঙ্গীর জানান, ‘মফস্বল শহর থেকে একজন তরুণীর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পাওয়া সত্যিই গর্বের বিষয়। সাথী শুধু নিজের মেধার পরিচয় দেয়নি, সে প্রমাণ করেছে সুযোগ ও প্রশিক্ষণ পেলে নতুনরাও বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিতে পারে। ভবিষ্যতে সে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’