ঢাকা: ভুয়া মামলা প্রত্যাহারে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলাপ্রশাসক সম্মেলন ২০২৬-এর চতুর্থ দিনের তৃতীয় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সরকারের এ অবস্থানের কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়। জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রাক-নির্বাচনি সময়ে যেসব লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল জনসাধারণকে, সেই অস্ত্রগুলো এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। সেই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটা চিঠি দেওয়া হয়েছে, যাতে যথাশিগগির সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে দায়েরকৃত গায়েবি ও ভুয়া মামলা নিরসনে সরকার কাজ করছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ভুয়া, হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো যাচাই করবে। ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত ফরমে চার্জশিট বা এজাহারসহ আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিক যাচাই শেষে সুপারিশসমূহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। সিআরপিসি ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী আইনগতভাবে এসব মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৫ আগস্ট পরবর্তী গণহত্যামূলক মামলাগুলোতে যাতে নিরপরাধ কেউ বা কোনো সাংবাদিক অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
আসন্ন ঈদুল আযহা নিরাপদ করতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সড়ক-মহাসড়কের ওপর ও রেলপথের পাশে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। বড় হাটগুলোতে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন থাকবে এবং পুলিশ বডি ওর্ন ক্যামেরা নিয়ে টহল দিবে।
তিনি জানান, ঈদের সাত দিন আগে পুলিশ সদর দফতরে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল স্থাপন করা হবে। মহাসড়কগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাইকিং ও সচেতনতামূলক সাইনবোর্ডের ব্যবস্থা করা হবে।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুশব্যাকের আশঙ্কার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।’ এছাড়া মাদক, জুয়া এবং অনলাইন বেটিং-এর বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান চলবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ বিভিন্ন দফতর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।