কুমিল্লা: দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশ দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রায় ১০৫ কিলোমিটারজুড়ে মহাসড়কজুড়ে নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলারের অবাধ চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা। এতে একদিকে যেমন যানজট বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে বাড়াচ্ছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা ও অটোবাইকের মতো ধীরগতির যানবাহন প্রকাশ্যে চলাচল করছে। অনেক চালক হঠাৎ লেন পরিবর্তন করছেন, কেউ আবার উলটো পথে গাড়ি চালাচ্ছেন। ফলে দ্রুতগতির যানবাহনের চালকরা পড়ছেন চরম বিপদে। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, হতাহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে কুমিল্লা অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬ শতাধিক মানুষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর বড় একটি অংশই ঘটেছে মহাসড়কে নিষিদ্ধ ধীরগতির যানবাহনের কারণে।
মহাসড়কের দুই পাশে অনেক এলাকায় সার্ভিস লেন না থাকায় স্থানীয়রা স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য বাধ্য হয়ে এসব থ্রি-হুইলার নিয়ে মহাসড়কে উঠছেন। এতে দ্রুতগতির যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে।
পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় নোয়াখালীগামী যাত্রী সুজন মিয়া বলেন, ‘মহাসড়কে উঠলেই ভয় লাগে। ছোট গাড়িগুলো হঠাৎ সামনে চলে আসে। কখন দুর্ঘটনা ঘটে বলা যায় না।’
লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকাগামী যাত্রী উজ্জ্বল রায়ও একই উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, ‘দূরপাল্লার বাসেও নিরাপদ মনে হয় না। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের দফতর সম্পাদক মো. সেলিম রেজা মুন্সী বলেন, ‘শুধু অভিযান চালিয়ে থ্রি-হুইলার আটকালে হবে না। কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।’
এদিকে হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মামলা ও যানবাহন জব্দ করলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। কুমিল্লা রিজিওন হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলেন, ‘নিষিদ্ধ যান চলাচল বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে কার্যকর নিয়ন্ত্রণে আনতে সবার সহযোগিতা জরুরি।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। মহাসড়কের পাশে সার্ভিস লেন নির্মাণ, বিকল্প সড়ক উন্নয়ন, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি। তা না হলে দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম এই মহাসড়ক আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।