দীর্ঘ ১৫ বছর পর ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বহুল প্রতীক্ষিত এই সিরিজকে ঘিরে বাংলাদেশ দল রোমাঞ্চিত। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে মুখিয়ে আছেন দলের ক্রিকেটাররা।
আগামীকাল সকাল ১১টায় মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে সিরিজ নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানান মিরাজ।
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ’আমরা সবাই অনেক রোমাঞ্চিত। লম্বা সময় পর আমরা অস্ট্রেলিয়ার সাথে সিরিজ খেলছি এবং অধিনায়ক হিসেবে আমিও অনেক রোমাঞ্চিত। আমার কাছে মনে হয় এটা আমাদের জন্য একটা ভালো একটা চ্যালেঞ্জ শুরু হতে যাচ্ছে এবং আমরা যদি ভালো শুরু করতে পারি তাহলে আমাদের জন্য ভালো হবে।’
সবশেষ ২০১১ সালের বিশ্বকাপের পর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর দুই দলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজই হয়নি। ফলে এক যুগেরও বেশি সময় পর আবারও নিজেদের মাঠে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলতে নামছে টাইগাররা।
পরিসংখ্যান অবশ্য বাংলাদেশের পক্ষে নয়। ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ২২ ম্যাচ খেলে মাত্র একবার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই ঐতিহাসিক জয়টি এসেছিল ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের কার্ডিফে, যেখানে ম্যাচজয়ী সেঞ্চুরি করেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল।
তবে এবার পরিস্থিতি বাংলাদেশের অনুকূলে। অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার বাংলাদেশ সফরের দলে নেই। ফলে নিজেদের পরিচিত কন্ডিশনে ভালো কিছু করার সুযোগ দেখছে বাংলাদেশ। মেহেদি হাসান মিরাজ বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো ভালো ক্রিকেট খেলার জন্য এবং আমি অনেক কনফিডেন্ট যে সবাই ফর্মে আছে। ব্যাটসম্যানরা, বোলাররা খুব ভালো টাচে আছে এবং ডিপিএল এ খুব ভালো খেলেছে সবাই। এবং হ্যাঁ, আমাদের জন্য এটা একটা বিরাট সুযোগ যেহেতু অস্ট্রেলিয়ার সাথে অনেক বছর পরে সিরিজ খেলছি। যেহেতু ঘরের মাঠ, আমরা যদি সেই সুবিধাটা নিতে পারি আমাদের জন্য খুবই ভালো হবে।’
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হতে যাওয়া এই সিরিজে বাংলাদেশ কি ইতিহাস গড়তে পারবে, নাকি নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখবে অস্ট্রেলিয়া—সেই উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।