Tuesday 14 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চট্টগ্রামে নতুন আঙ্গিকে স্মার্ট স্কুল বাস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৭ নভেম্বর ২০২৩ ২২:১৩ | আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০২৩ ০২:০৭

প্রেজেন্সলেস, পেপারলেস ও ক্যাশলেস প্রযুক্তিসহ সব ডিভাইস সংযুক্ত রয়েছে চট্টগ্রামে চালু হওয়া স্মার্ট স্কুল বাসে। ছবি: সারাবাংলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মহানগরীতে স্কুল শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নতুন আঙ্গিকে স্বয়ংক্রিয় বিভিন্ন প্রযুক্তি সংযোজন করে চালু করা হয়েছে ‘স্মার্ট বাস’। তিন বছর আগে স্কুল বাসের যাত্রা শুরু হলেও করোনাকালে এর কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এবার ‘স্মার্ট জেলা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জ-২০২৩’-এর আওতায় প্রথম পুরষ্কার পাওয়া ‘স্মার্ট স্কুল বাস’ প্রকল্পের মাধ্যমে এটি আবারও চালু হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রথমে একটি স্মার্ট বাস দিয়ে নতুন করে যাত্রা শুরু হয়েছে। জানুয়ারিতে ১০টি বাস দিয়ে পুরোদমে সেবাটি চালু হবে। এসব বাসে জিপিএস ট্র্যাকার, জিআইএস প্রযুক্তি, ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস ও আইপি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বাসে ওঠানামার সময় হাজিরা যন্ত্রে স্মার্ট কার্ড চাপ দিলেই অভিভাবকের মোবাইলে ক্ষুদেবার্তা চলে যাবে। এতে অভিভাবক সঙ্গে না থাকলেও সহজেই সন্তানের তথ্য জানতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়াম কেন্দ্রের সামনে মাঠে স্মার্ট বাসের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম। এ সময় একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেনও ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রথম দিনে ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭০ শিক্ষার্থী বাসে ছিল। তাদের প্রত্যেকেই স্মার্ট কার্ড চেপে বাসে ওঠে। প্রেজেন্সলেস, পেপারলেস ও ক্যাশলেস প্রযুক্তিসহ সব ডিভাইস সংযুক্ত ছিল এ বাসে। মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) সকালে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাসটি সড়কে চলবে। শিক্ষার্থীরা পাঁচ টাকা ভাড়ায় এ সুবিধা পাবে।

প্রায় তিন বছরের বিরতির পর ফের চট্টগ্রামে চালু হয়েছে এই স্মার্ট স্কুল বাস। ছবি: সারাবাংলা

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার তোফায়েল ইসলাম বলেন, ‘ধ্বংস থেকে যে নতুন কিছু সৃষ্টিও হতে পারে, তার প্রমাণ এই স্মার্ট বাস প্রকল্প। নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে সারাদেশে যে একটা ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, চট্টগ্রাম ছিল তার ব্যতিক্রম। চট্টগ্রামে এ আন্দোলন একটি যৌক্তিক রূপ পেয়েছিল। এ আন্দোলন থেকেই যে প্রস্তাব এসেছিল স্মার্ট বাসের, সেটাই এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে।’

একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ আবুল মোমেন বলেন, ‘প্রকল্পটি চালু করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। তবে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণে এ প্রকল্প দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং শিক্ষার্থীরা আরও বেশি লাভবান হবে।’

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মো. ফখরুজ্জামান জানান, গত অক্টোবরে স্মার্ট জেলা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পায় স্মার্ট বাস প্রকল্পটি। ওই প্রকল্পের আওতায় একটি বাস দিয়ে প্রাথমিকভাবে যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তহবিলে ৮০ লাখ টাকা দিয়েছেন। জানুয়ারিতে মোট ১০টি বাস চলবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের ডিন রাশেদ মোস্তফা, জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবদুল মালেক ও সাদি উর রহিম, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং স্কুল বাস মনিটরিং টিমের উপদেষ্টা নুরুল আজিম রনি এবং নগরীর ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

এই স্কুল বাসে ৫ টাকায় শিক্ষার্থীরা যেকোনো জায়গায় যাতায়াত করতে পারবে। ছবি: সারাবাংলা

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের আগস্টে দেশজুড়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। তখন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছিলেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক। শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্কুল বাসসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছিলেন। বৈঠকের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে স্তিমিত হয় আন্দোলন।

দেড় বছর পর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ১০টি বাস চট্টগ্রামে চালু করে। মাত্র পাঁচ টাকায় শিক্ষার্থীদের যেকোনো রুটে যাতায়াতের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের মাঝামাঝিতে করোনা মহামারি শুরু হলে এ কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়ে।

জানা গেছে, এবার চালু করা স্মার্ট বাসের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়েই গঠন করা হয়েছে ৭০ জনের মনিটরিং টিম। জেলা প্রশাসন এ টিম গঠন করেছে। টিমের উপদেষ্টা করা হয়েছে নুরুল আজিম রনিকে।

জানতে চাইলে নুরুল আজিম রনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের যে আন্দোলন, সেটাকে আমরা সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক বিভিন্ন দাবির পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। গণমুখী সরকার ও প্রশাসন সেই দাবি মেনে নিয়ে স্কুল বাস চালু করেছে। প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বাস পাঠিয়েছিলেন। এখন আবার তহবিলেও ৮০ লাখ টাকা দিয়েছেন। এতে এটাই প্রমাণ হয়েছে, বাংলাদেশে এখন একটি গণমুখী সরকার ক্ষমতায় আছে। আমরা স্মার্ট বাংলাদেশে স্মার্ট চট্টগ্রাম চাই। এর প্রথম দৃষ্টান্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জন্য স্মার্ট বাস।’

সারাবাংলা/আইসি/টিআর