ঢাকা: মামলায় কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ইসহাক মিয়ানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে পল্লবী থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় খালাসের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াতের আদালত এই আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারি বেঞ্চ সহকারী জুয়েল মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, গত ২ মে সকাল ১১টা ৫৭ মিনিটের দিকে কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ইসহাক মিয়ান (৬৩) তার মিরপুর ডিওএইচএস’র বাসা থেকে ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করে হিরেন মুখার্জীর কাছে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, র্যাব, পুলিশসহ অন্য সরকারী সংস্থার ভূমিকা সম্পর্কে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক তথ্য উল্লেখ করেন।
যা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ। তার ওই কাজে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটনানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে। আসামির এমন কার্যকলাপ সামরিক বাহিনীতে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার হীন প্রচেষ্টা। কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ইসহাক মিয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান, তার সঙ্গে মেজর হাফিজ উদ্দিন এবং ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেনসহ অনেকেই জড়িত রয়েছেন। এ ঘটনায় র্যাব-৪ এর সাব-ইন্সপেক্টর আবু সাইদ ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
২০২০ সালের ১ এপ্রিল মামলাটি তদন্ত করে র্যাব-৪ এর সাব-ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম কর্নেল (অব.) ইসহাক মিয়ানকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। হাফিজ উদ্দিন এবং ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেনকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়।
ওই বছরের ১৯ নভেম্বর ইসহাক মিয়ানের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন। ২০২১ সালের ২১ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত।
জানা যায়, এদিন মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ছিল। র্যাব-৪ এর নায়েব সুবেদার আজাদ রহমান এবং হাবিলদার মোকাবর হোসেন সাক্ষ্য দেন। এরপর আদালত দেখেন ইসহাক মিয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ইমেইল পাঠানোর। কিন্তু এই ইমেইলটি ইসহাক মিয়ানের কি না মালিকানা যাচাই করা হয়নি। পরে আদালত তাকে খালাসের আদেশ দেন।