চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীতে নিখোঁজের দুইদিন পর কর্ণফুলী নদী থেকে এক স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ছুটি শেষে স্কুল থেকে বের হবার পর তার আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে নগরীর অভয়মিত্র ঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে ভেসে আসা লাশটি উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। খবর পেয়ে ওই ছাত্রের বাবা গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন বলে জানিয়েছেন নৌ পুলিশের সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. একরাম উল্লাহ।
মৃত অদ্রিপ অয়ন সায়ান (১৩) নগরীর পশ্চিম বাকলিয়ার কেডিএস গলির বাসিন্দা বিশ্বজিৎ দাশের ছেলে। হাজী মুহাম্মদ মহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল সায়ান।
নিখোঁজের বিষয়টি উল্লেখ করে সায়ানের বাবা মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছিলেন। সেখানে কলেজ রোড এলাকা থেকে নিখোঁজের বিষয় উল্লেখ আছে।
বিশ্বজিৎ দাশ সারাবাংলাকে বলেন, ‘মঙ্গলবার স্কুলে গিয়েছিল সায়ান। ছুটির পর জামালখান এলাকায় গিয়েছিল। জামালখানে যাবার বিষয় আমরা জানতাম। কিন্তু এরপর সে আর বাসায় ফিরে আসেনি। আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে থানায় জিডি করি। আজ (বৃহস্পতিবার) লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে থানায় আসি।’
সন্তানের আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙ্গে পড়া বিশ্বজিৎ আরও বলেন, ‘কিভাবে এত বড় ঘটনা ঘটে গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না।’
চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুর কাদের সারাবাংলাকে বলেন, ‘নিখোঁজ জিডি হয়েছিল। আমরা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সন্ধান পাবার চেষ্টা করছিলাম। এর মধ্যেই লাশ পাওয়া গেল। অন্তরালের রহস্য কি সেটা আমরা এখনও জানি না। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।’
নৌ পুলিশের সদরঘাট থানার ওসি মো. একরাম উল্লাহ সারাবাংলাকে জানান, হাজী মুহাম্মদ মহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাক পরিহিত অবস্থায় সায়ানকে পাওয়া গেছে। শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। দুইদিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিখোঁজ ডায়েরি তদন্তকারী চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইমরান সারাবাংলাকে বলেন, ‘লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। লাশের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাকে কেউ তুলে নিয়ে গেছে কিংবা কোনো ধরনের বিরোধের বিষয় অথবা কাউকে সন্দেহের কথাও পরিবারের সদস্যরা জানাননি। আমাদের ধারণা, ছেলেটি নিজেই নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।’