চট্টগ্রাম ব্যুরো: পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল আহসান চৌধুরীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে বন্ধকী সম্পদের অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে সেই অনুপাতে ঋণ দিয়ে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোমবার (২৯ আগস্ট) সকালে দুদক সমন্বিত চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হক মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার ১১ আসামির মধ্যে চারজন পদ্মা ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা। ব্যাংকটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বর্তমান উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল আহসান চৌধুরী ছাড়াও সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী, সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসভিপি) শওকত ওসমান চৌধুরী এবং খাতুনগঞ্জ শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. আনোয়ার হোসেন আসামি হিসেবে আছেন।
এছাড়া ঋণগ্রহীতা ও সম্পদের মূল্য নির্ধারণে জড়িত হিসেবে আসামি হয়েছেন আরও সাতজন। এরা হলেন- এস বি অটো ব্রিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ছগীর চৌধুরী, মেসার্স আলম এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আবু আলম ও তার স্ত্রী পারভীন আক্তার, ন্যাশনাল সার্ভে বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম শামীম, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী মোস্তাক আহমেদ এবং সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ড. আতহার উদ্দিনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
দুদকের সমন্বিত চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়- ১ এর উপ পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত সারাবাংলাকে বলেন, ‘ঋণগ্রহীতার মালিকানাধীন সম্পদ বন্ধক রেখে ১৪ কোটি টাকা ঋণ দেয় পদ্মা ব্যাংক। এরপর অতিরিক্ত আরও ১০ কোটি টাকা তিন মাস মেয়াদী ঋণ দেয়া হয় একই গ্রহীতাকে। দুদক অনুসন্ধানে পেয়েছে, যে পরিমাণ ঋণ দেয়া হয়েছে বন্ধকী সম্পদের মূল্য তার চেয়ে অনেক কম।’
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঋণ হিসেবে দেওয়া অতিরিক্ত ১০ কোটি টাকা আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে এবং নগদে উত্তোলন করে আত্মসাত করেন। দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারাসহ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।