Sunday 05 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ওলিও হোটেলে বিস্ফোরণের ৪ বছর, এখনও শুরু হয়নি সাক্ষ্যগ্রহণ

আরিফুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৫ আগস্ট ২০২১ ১৬:২৯ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২১ ১৯:০৯
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: ২০১৭ সালের ১৫ আগস্টের আগের রাত। রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে। চার বছর আগে জাতীয় শোক কর্মসূচিতে হামলার পরিকল্পনা করতে পান্থপথের ওই হোটেলে আশ্রয় নেয় জঙ্গিরা। তবে তাদের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে দেয়নি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার আগের রাতেই পুলিশের অভিযানের সবকিছু নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এক পর্যায়ে সকালে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায় এক জঙ্গি। এতে হোটেলের চতুর্থ তলার রাস্তার দিকের অংশের দেয়াল ও গ্রিল ধসে পড়ে।

ওই ঘটনার পরের দিন পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা দায়ের করে। কিন্তু ওলিও হোটেলে বিস্ফোরণের চার বছর পার হলেও মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ এখনও শুরু হয়নি। ২০১৯ সাকের ২৪ নভেম্বর জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধ বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি মামলাটির চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। গত ৩১ মার্চ মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওই দিন কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। এজন্য আদালত সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ আগামী ১৯ মে ধার্য করেন। কিন্তু এরই মাঝে করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবরোধে লকডাউন থাকায় আদালত বন্ধ ছিল। সর্বশেষ আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ধার্য রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, চার্জগঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক বার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও এক জনেরও সাক্ষ্যও নেওয়া যায়নি।

মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট টাইব্যুনালের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর গোলাম ছারোয়ান খান (জাকির) সারাবাংলাকে জানান, ‘মামলাটির তদন্ত শেষ করতে প্রায় আড়াই বছরের বেশি সময় লেগেছে। এর মাঝে করোনার কারণে আদালত সাধারণ ছুটিতে ছিল। কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। সেই সময় আমরা মামলাটির চার্জগঠন করি। এরপর সাক্ষীদের আদালতে হাজির হতে সমন পাঠানো হলেও তারা আসেননি। এরই মাঝে আবার দ্বিতীয় দফায় লকডাউনের কারণে আদালত বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি আবারও আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখন মামলাটির বিচার দ্রুত করার চেষ্টা করব।’

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সুব্রত দেবনাথ রানা সারাবাংলাকে বলেন, ‘মামলাটিতে গত বছরে চার্জগঠন হয়। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য কয়েকটি তারিখ পড়লেও করোনাভাইরাসের জন্য তা হয়নি। মামলার চার্জশিট, এজাহার, যারা ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে- সেগুলোর অসামঞ্জস্য আদালতে তুলে ধরব। সাক্ষীদের জেরা, যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে আসামিদের কীভাবে নির্দোষ প্রমাণ করা যায়, সেই চেষ্টা করব। তারা যেন ন্যায়বিচার পায় সে জন্য কাজ করব। আশা করি তারা ন্যায় বিচার পাবে।’

মামলার চার্জশিটভূক্ত আসামিরা হলেন- আকরাম হোসেন খান নিলয় ওরফে স্লেড উইলসন, নাজমুল হাসান ওরফে মামুন, আবুল কাশেম ফকির ওরফে আবু মুসাব, আব্দুল্লাহ আইচান কবিরাজ ওরফে রফিক ,তারেক মোহাম্মদ ওরফে আদনান, কামরুল ইসলাম শাকিল ওরফে হারিকেন ওরফে রোবট ওরফে তানজিম, লুলু সরদার ওরফে সহিদ ওরফে মিস্ত্রি, তাজরীন খানম শুভ, সাদিয়া হোসনা লাকী, আবু তুরাব খান, তানভির ইয়াসিন করিম ওরফে হিটম্যান ওরফে জিন, হুমায়রা জাকির নাবিলা, নব মুসলিম আব্দুল্লাহ  ও তাজুল ইসলাম ওরফে ছোটন ওরফে মোহাম্মদ ওরফে ফাহিম। এদের মধ্যে তাজুল ইসলাম কিশোর হওয়ায় তার বিরুদ্ধে শিশু আইনে পৃথক একটি চার্জশিট দাখিল করা হয়।

তাজুল বাদে অপর ১৩ আসামির মধ্যে তাজরীন খানম, সাদিয়া হোসনা লাকী, আবু তুরাব খান, তানভির ইয়াসিন করিম, হুমায়রা জাকির নাবিলা ও আব্দুল্লাহ এই ছয় আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন। আর অপর সাত আসামি কারাগারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান চলার মধ্যেই ৩০০ মিটার দূরে পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে অভিযান চালায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াট সদস্যরা। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা ওই অভিযানের এক পর্যায়ে হোটেল থেকে বিকট বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ পাওয়া যায়। বিস্ফোরণে হোটেলের চতুর্থ তলার রাস্তার দিকের অংশের দেয়াল ও গ্রিল ধসে নিচে পড়ে।

হামলার পরিকল্পনা ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ওই সময় কলাবাগান থানায় ১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন কলাবাগান থানার এসআই সৈয়দ ইমরুল সায়েদ।

সারাবাংলা/এআই/পিটিএম