চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘মা মারিয়া তীর্থ উৎসব’ উদযাপন হয়েছে। প্রতিবছর বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ উৎসব হলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এবার শুধু একদিনের অনুষ্ঠান হয়েছে।
উৎসবকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার দৌলতপুরে দিয়াং পাহাড়ে মা মরিয়ম আশ্রমে খ্রিস্ট সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনমেলা বসে। সম্মিলিত খ্রিস্টযজ্ঞে অংশ নেন প্রায় দুই হাজার বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশু।

এবারের খ্রিস্টযাগে পৌরহিত্য করেন কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এ বছর আমাদের উৎসবের মূলসুর হচ্ছে মা মারিয়ার স্বামী সাধু যোসেফ। তিনি কিভাবে মা মারিয়া ও যিশুকে জীবনভর সুরক্ষা দিয়েছিলেন, সেটা আমাদের মানবসমাজের কাছে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সাধু জোসেফ প্রচারের আড়ালে থাকা খুব সাধারণ একজন মানুষ ছিলেন। তার জীবনকর্ম আজকের বাস্তবতায় অনেকবেশি প্রাসঙ্গিক। কারণ বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারিতে সাধু জোসেফের মতো সাধারণ মানুষই মানুষের প্রাণরক্ষা করেছেন। বিশ্বের মানবসমাজকে টিকিয়ে রেখেছেন। এ কারণেই মূলত পোপের চিন্তায় এবার সাধু জোসেফের বিষয়টিও এসেছে।’

খ্রিস্টযাগ শুরুর আগে কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আর্চডায়োসিসের প্রশাসক ফাদার লেনার্ড রিবেরু মা মারিয়া ও সাধু জোসেফের মূর্তিতে মুকুট ও মালা পরিয়ে বেদিতে আসেন। উপস্থিত যাজকরা বেদীতে প্রণাম করেন। এরপর শুরু হওয়া খ্রিস্টযাগ সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আর্চডায়োসিসের ফাদার বিজয় রিবেরু।
পরে কার্ডিনাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো দিয়াং মারিয়াম আশ্রমে আসা প্যাট্রিক ডি রোজারিওকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আর্চডায়োসিসের পালকীয় সমন্বয়কারী মানিক উইলভার ডি কস্তা সারাবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার মানুষের সম্মিলনে দুই দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করা হয়। কিন্তু কোভিডের কারণে এবার আমরা দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসা এবং রাতযাপনকে নিরুৎসাহিত করেছি। শোভাযাত্রা, মোমবাতি প্রজ্বলনসহ প্রতিবছর যেসব আয়োজন, সেগুলো বাদ দিয়ে শুধু খ্রিস্টযাগের মাধ্যমে উৎসব সমাপ্ত করেছি। এরপরও প্রায় দুই হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে উৎসবস্থলে প্রবেশ করতে দিয়েছি। কারিতাসের এমসিপিপি প্রকল্পের আওতায় সবাইকে মাস্ক বিতরণ করা হয়।’

১৪শ শতকে ফ্রান্সের একটি শহরে বার্নাডেড নামে এক কিশোরকে মা মারিয়া দেখা দিয়েছিলেন বলে বিশ্বাস করেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা। এরপর থেকে দিনটিকে তীর্থ উৎসব নামে পালন করে থাকেন তারা।
১৯৭৬ সাল থেকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর কোল ঘেঁষা দিয়াং পাহাড়ে এই উৎসবের আয়োজন করে আসছেন বাংলাদেশের খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা।
ছবি: শ্যামল নন্দী