Monday 29 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘নারী সাংবাদিকরা দেশের সংবাদজগতে মাইলফলক তৈরি করেছেন’


১৮ মার্চ ২০২০ ১৮:৫০ | আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২০ ১৮:৫৪
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: ‘আমাদের দেশে টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও বিভিন্ন মিডিয়ায় হাজারেরও বেশি নারী সাংবাদিক কাজ করছেন। প্রতিবেদক থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নারী সাংবাদিকরা কাজ করছেন, যা আমাদের দেশের জন্য একটি মাইলফলক, বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বুধবার (১৮ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের ১৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে বাংলাদেশে নারীদের যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল তা এখন এগিয়ে নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রশাসনসহ সামরিক ও বেসামরিক নানা জায়গায় শীর্ষ পর্যায়ে নারীরা আছেন। একসময় এদেশের কেউ ভাবেনি, নারীরা স্থানীয় প্রশাসনের চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হবে কিন্তু এখন সেটা হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো এমন অগ্রগতি আশেপাশের দেশে হয়নি। মুসলিম দেশের মধ্যে নারীর অগ্রগতির দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রথম অবস্থানে তুরস্ক।’

বিজ্ঞাপন

নুরজাহান বেগমসহ যারা বাংলাদেশে নারী সাংবাদিকতা শুরু করেছিলেন তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক। প্রতিষ্ঠানটির দেড় যুগ পূর্তি অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে সব ধরনের গণমাধ্যমের নারী সাংবাদিকদের নিয়ে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন বাংলাদেশে নারী সাংবাদিক ছিলেন ১০০ জনের মতো, আর এখন হাজারেরও বেশি নারী ইলেক্ট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইনে গণমাধ্যেমে কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তারা নারী সাংবাদিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।’ এছাড়াও নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং মানবাধিকার লংঘনের ঘটনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করা হয় বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশে নারী সাংবাদিকদের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে নাসিমুন আরা বলেন, ‘নারী সাংবাদিকরা পারিবারিক নির্যাতনসহ নানারকম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতা অনুযায়ী স্বীকৃতি পাচ্ছেন না। নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নারীর সংখ্যা খুবই কম। এসব সমস্য দূর করার জন্য তিনি তথ্যমন্ত্রীর কাছে কিছু দাবিও তুলে ধরেন। যেমন-

সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পলিসি সংক্রান্ত কমিটিতে নারী সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে; সরকারি কমিটিতে নারী সাংবাদিকদের উপস্থিতি কম, সেখানেও নারীর সংখ্যা বাড়াতে হবে; প্রতিটি সরকারি সফরে দুজন নারী সাংবাদিক নিতে হবে; সারাদেশে নারী সাংবাদিকদের পরিস্থিতি নিয়ে সমীক্ষা করতে হবে; সাংবাদিকতার বিভিন্ন বিভাগে নারী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ চালু করতে হবে; তথ্য আইন বিষয়ে সবাইকে জানাতে হবে।

এছাড়া প্রতিটি সংবাদ প্রতিষ্ঠানে নারী সাংবাদিকদের লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে কিছু নির্দেশনা জানান। তথ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন যেন তিনি সম্পাদকদের মাধ্যমে এই পলিসিগুলো বাস্তবায়ন করেন।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নারীদের সঙ্গে লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে পলিসি থাকতে হবে; নারী সহকর্মীর সঙ্গে আচরণ বিষয়ক আচরণবিধি থাকতে হবে; সংবাদ প্রতিষ্ঠানে চাকরি বৈষম্য দূর করতে হবে।

নারী সাংবাদিকদের দাবি বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তিনি নারী হিসেবে কাউকে আলাদা করে বিবেচনা করছেন না। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন কমিটিতে স্থান পায়। সরকারের পক্ষ থেকে নারী ও পুরুষের মধ্যে ব্যবধান ঘোচাতে লিঙ্গ নির্বিশেষে জনাব বলতে হয়। বাংলা একাডেমিতেও সেটি সংযোজন করা হয়েছে। দলীয় প্রধানকে সভাপতি বলা হয়। সাম্য আনার জন্য রাষ্ট্র ভাষাগত দিক থেকে এই পরিবর্তন এনেছে। পদের নামের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ দেখা হয় না। নারী বলে কাউকে দেওয়া হয় না, তা নয়। নারীকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে পদ ও পদবি দিতে হবে। নারী হিসেবে নয়।

তিনি বলেন, ‘সারাবিশ্বেই নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশি কাজ করে। নারীরা ৭০ শতাংশ বেশি কাজ করে। এর কারণ তারা কর্মস্থলের পাশাপাশি ঘরের কাজও করেন। অন্যদিকে পুরুষ ঘরের কাজে অংশগ্রহণ করেই না বলতে গেলে।’

দেশে সম্প্রতিকালে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে নাসিমুন আরা বলেন, ‘আমরা অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেলেও সামাজিক সহিংসতা ও অবক্ষয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। এর থেকে মুক্তি পেতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও মূল্যবোধ বাড়ানোর কাজ করতে হবে। নারীকে শ্রদ্ধা করতে শেখাতে হবে। উত্তরাধিকার আইনে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

এই বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী নারীর প্রতি সহিংসতার কারণ হিসেবে সারাবিশ্বেই মানুষের মধ্যে মানবিক বিপর্যয়কে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘বস্তুগত উন্নয়নের জন্য পশ্চিমা বিশ্বে মানুষ দিন দিন যন্ত্র হয়ে যাচ্ছে, মানবিকতা কমে যাচ্ছে। তাই সেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ঠিক রাখার জন্য বিভিন্ন দিবস পালন করতে হয়। বাংলাদেশে বস্তুগত উন্নয়ন হলেও তাদের মতো আত্মকেন্দ্রিক সমাজ গঠন বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশ্য নয়। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। এগুলো করতে পারলে নারী-শিশু-মানুষের প্রতি সহিংসতা কমবে।’

এছড়াও তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে গণমাধ্যমে সহিংসতা ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এমন কিছু না দেখানোর অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘যেকোনো অনুষ্ঠানের সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করে প্রোগ্রাম ও সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। সহিংসতা, পরকীয়ার কারণে শিশু নির্যাতন এসব আরও বেশি সহিংসতা উসকে দিতে পারে। তাই সতর্ক হতে হবে।’