Saturday 27 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাজারবাগ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর জুড়ে বঙ্গবন্ধুর বীরত্বের গল্প


২৬ মার্চ ২০১৯ ০৪:০৭ | আপডেট: ২৬ মার্চ ২০১৯ ০৮:১১
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: ব্রিটিশ আমল থেকে দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের বীরত্বের স্মৃতি কথা তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে গড়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর। কিন্তু জাদুঘরটিতে পুলিশের বীরত্বের গল্পের চেয়ে বেশি ঠাঁয় পেয়েছে বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শৈশব, কৈশোর থেকে শুরু করে আমৃত্যু সকল অর্জন ও বীরত্বের গল্প। শুধু তাই নয়, জাদুঘরটি সাজানোও হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সকল স্মৃতিকথার দৃশ্যপট নিয়ে।

 

জাদুঘরটির পরিচালনা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ মানেই বঙ্গবন্ধু। আর সে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধে যে অসামান্য অবদান রেখেছে জাদুঘরটিতে তাই ফুটে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার কিংবা পাকিস্তান সরকারের শোষণ-বঞ্চনায় নিপীড়িত জনতার পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশ যে অবদান রেখেছিল সেটিরও নেপথ্যে ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাই পুলিশের স্মৃতির দৃশ্যপটে বঙ্গবন্ধুকে আলাদা করার কোনো সুযোগ নেই। যে কারণে তরুণ প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের সকল দুর্লভ তথ্য তুলে ধরতে পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরজুড়ে ঠাই পেয়েছে জাতির পিতার বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৫ মার্চ) দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অবস্থিত জাদুঘরটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন দর্শনার্থী জাদুঘরটিতে এসে ঘুরে ঘুরে প্রতিটি ছবির উপর লেখা ইতিহাস বীরত্বের গল্পগুলো পড়েছেন আর অবাক দৃষ্টিতে ছবিগুলো পরখ করছেন। কেউ কেউ দুর্লভ ছবিগুলো মুঠোফোনে তুলে নিচ্ছেন নিজের সংগ্রহে রাখতে।

জাদুঘরটিতে ঘুরতে আসা একজন দর্শনার্থী রিফাত সাইমন সারাবাংলাকে বলেন, এখানে এসে বঙ্গবন্ধুর অনেক দুর্লভ ছবি দেখে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। ছবিগুলো এবারই প্রথম দেখলাম। তিনি কিভাবে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরলেন এক অনন্যতায় সে দৃশ্যগুলো দেখে অবাকই হলাম। আরও অবাক হলাম সাধারণ জনতার সঙ্গে তিনি কিভাবে মিশে যেতেন সেসব দৃশ্য দেখে।

অপর এক দর্শনার্থী বলেন, এ জাদুঘরটি যদি পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর না রেখে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর রাখা হতো তাহলেও মনে হয় ভুল হতো না। বাংলাদেশের ইতিহাসকে জানতে এ জাদুঘর অনেক বড় ভূমিকা রাখবে।

পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর যাত্রা শুরু করে ২০১৩ সালের ২৪ মার্চ। বর্তমানে এটি নানান দুর্লভ চিত্রে ভরপুর। দ্বিতল জাদুঘরটির উপরের তলার পুরোটা জুড়ে রাখা হয়েছে বঙ্গবন্ধু গ্যালারী। গ্যালারিজুড়ে টুঙ্গিপাড়ার সেই ছোট্ট খোকার বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠার গল্প এবং বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা হয়ে উঠার গল্পগুলো যথাযথভাবে ঠাঁয় পেয়েছে। ঠাঁয় পেয়েছে একজন সাধারণ কর্মী থেকে কিভাবে আওয়ামী লীগের কাণ্ডারিতে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। এটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে প্রবেশের পর প্রথমে বঙ্গবন্ধু গ্যালারী পরিদর্শনের পর নিচ তলায় পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারীতে প্রবেশ করতে হয়। বঙ্গবন্ধু গ্যালারীর চারপাশে গোলাকৃতিতে খণ্ড খণ্ড ফ্রেমে চিত্রগুলো স্থাপন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রাখা হয়েছে একটি লাইব্রেরি। যেখানে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নানা গল্প উপন্যাস ও প্রবন্ধ সংগৃহীত রয়েছে।

এছাড়া জাদুঘরটিতে আরও রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময় পুলিশের ব্যবহৃত কিছু দুর্লভ চিত্র ও সরঞ্জাম। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত বেতার যন্ত্র, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনের দুর্লভ দৃশ্য ও ইতিহাস, ২৫ মার্চ প্রথম প্রতিরোধ ব্যারিকেডের সময় ব্যবহৃত পাগলা ঘণ্টা, মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত থ্রি নট থ্রি রাইফেল, মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা রাখা শহীদ এসআই শিরু মিয়ার দুর্লভ চিঠি, মটার্রশেলের আঘাতের চিহ্ন ও এর অংশবিশেষ, শহীদ কনস্টেবল আব্দুস সামাদ ও মো. জাহাঙ্গীরের সমাধি ফলক, আইজিপি আব্দুল খালেকের ভাষণের কপি, স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারকে প্রথম গার্ড অব অনার প্রদানের দৃশ্য এবং মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিহতের তালিকা ও খেতাবপ্রাপ্ত পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা।

প্রতিবছর মার্চ মাসে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে জাদুঘরটি। এমনকি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি কিংবা মেইল করে পরিদর্শনের কথা জানায় তাহলে জাদুঘরের পক্ষ থেকে নিজস্ব পরিবহনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসার ব্যবস্থাও আছে। জাদুঘরটি মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। সপ্তাহের প্রতি বুধবার বন্ধ থাকে এবং প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত খাবারের বিরতি থাকে। মাত্র দশ টাকা মূল্যের টিকিটের বিনিময়ে দিনব্যাপী পরিদর্শন করা যায় যাদুঘরটি।

জাদুঘরটির তত্ত্বাবধায়ক এসআই মাসুদ খান সারাবাংলাকে বলেন, নানান দুর্লভ সব তথ্যসমৃদ্ধ এ জাদুঘরটি তরুণ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস সম্পর্কে জানতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। কিন্তু সেভাবে প্রতিফলিত হয়না দর্শনার্থী। অনেকে জানে না যে এখানে এমন একটা জাদুঘর আছে। কেউ কেউ মনে করে এতে কেবল পুলিশ সদস্যরা প্রবেশ করতে পারে। তাই তেমন দর্শনার্থী আসে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি তরুণ প্রজন্মকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করতে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের অবদানের নেপথ্যে ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাই তাকে বাদ দিয়ে জাদুঘরটি সাজানো অসম্ভব ছিল। তাই জাদুঘরটির অধিকাংশ স্থানজুড়ে রাখা হয়েছে জাতির পিতার সকল দুর্লভ চিত্র ও সরঞ্জামাদি। যা জাদুঘরটিকে করেছে ইতিহাসের সম্পর্কে তথ্য নির্ভর প্রতিষ্ঠান।

সারাবাংলা/এসএইচ/আরএ