।। সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ।।
ঢাকা: স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী, বিএনপি নেতা মো. আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা চলবে। স্ত্রীর নামে রাজউকের প্লট বরাদ্দ হলেও মিথ্যা হলফনামা দাখিল করে নিজ নামে প্লট বরাদ্দ নেওয়ায় দুদকের দায়ের করা মামলার স্থগিতাদেশ তুলে দেওয়ায়, মামলাটি ফের চলবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।
রোববার (২০ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত জারি করা রিট খারিজ করে এই রায় দেন। গত বছরের ১০ মে হাইকোর্ট এই বিষয়ে ৬ মাসের রুল ও মামলাটির কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন।
এর আগে, তিনি ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছিলেন। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান, রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মো. খুরশিদ আলম।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মো. আবদুল হাই বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ বিগত ২০০৪ সনের ২৯ জানুয়ারি তারিখে রাজউকের চেয়ারম্যান বরাবরে গুলশান ও বনানী আবাসিক এলাকায় তার নামে একটি প্লট বরাদ্দের জন্য আবেদন করেন। তার আবেদনের সঙ্গে রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী একটি হলফনামা দাখিল করেন এবং তার দাখিলকৃত হলফনামায় অঙ্গীকার করেন যে, ‘বৃহত্তর ঢাকা মহানগরীর রাজউকের আওতাধীন এলাকায় কোথাও তার নিজের নামে, স্ত্রী /স্বামী/নির্ভরশীল ছেলেমেয়ে অথবা পোষ্যের নামে কোন আবাসিক জমি বা বাড়ি/ ফ্ল্যাট খরিদ কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে নাই অথবা ডি আই টি বর্তমানে রাজউক অথবা কোন সরকারি সংস্থা কর্তৃক কোন আবাসিক জমি বা বাড়ী বরাদ্দ অথবা লীজ প্রদান করা হয় নাই এবং উক্ত ঘোষণা সম্পূর্ণ সত্য ও নির্ভুল।’
এরপর তিনি এমপি ও সভাপতি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ বিগত ২০০৫ সনের ৭ জুন নিজ নামে গুলশান ও বনানী আবাসিক এলাকায় সাময়িক ভাবে বরাদ্দকৃত প্লটের বরাদ্দপত্র জারির জন্য রাজউকের চেয়ারম্যান বরাবরে আবেদন করেন, তার আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজউক আবদুল হাইয়ের নামে বনানী আবাসিক এলাকায় একটি প্লট শর্ত সাপেক্ষে সাময়িক ভাবে বরাদ্দ দেয়। পরে ২০০৫ সনের ২০ জুন বনানী আবাসিক এলাকার ৩নং রাস্তার কমবেশি ৫ কাঠা আয়তন বিশিষ্ট ৯নং প্লটটি তার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
আবদুল হাই তথ্য গোপন করে হলফনামা দিয়ে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইনের ৪০৯ এবং দুনীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) মতিঝিল থানার মামলা দায়ের করেন। পরে একই উপ-পরিচালক তদন্ত করে ২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত- ৮ এ বিচারাধীন আছে।
সারাবাংলা/এজেডকে/এমও