Friday 26 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ভোটের পরদিনই দলীয় কোন্দলে যুবলীগ নেতার মৃত্যু


৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ ১৯:৩৭
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ভোটের একদিন পরেই চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় দলীয় কোন্দলের জেরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে দাউদ সম্রাট (৩০) নামে এক যুবলীগ নেতাকে। এসময় আরও তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর মহাদেবপুর ওয়ার্ডের দত্তপাড়া হাইস্কুলের সামনে এই ঘটনা ঘটেছে।

এরপর হতাহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে এসে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোফাখখার আলম চৌধুরী। তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। এসময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

নিহত দাউদ সম্রাট সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৪ নম্বর মহাদেবপুর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। তার স্বজন ও অনুসারীরা জানিয়েছেন, একই ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

দাউদ সম্রাট সীতাকুণ্ড উপজেলা চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম আল মামুনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অভিযুক্ত শহীদ চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও মহানগরের একাংশ) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

দাউদ সম্রাটের চাচাতো ভাই মো. জাবেদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে এমপি এবং উপজেলা চেয়ারম্যানকে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কর্মীদের মধ্যে তো কোনো ঐক্য হয়নি। ভোটের একদিন পরেই আমার ভাইকে এর খেসারত দিতে হয়েছে।’

দাউদ সম্রাটের ছোট ভাই সাজ্জাদ হোসেন জানান, তার ভাই দাওয়াতে যাবার জন্য বাসা থেকে বের হন। তিনি দত্তপাড়া স্কুলের সামনে পৌঁছালে একটি মাইক্রোবাসে করে আসা শহীদের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা অতর্কিতে তার ওপর হামলা করে। এসময় তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। তার সঙ্গে থাকা ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা অমল দেবনাথ, সাজ্জাত ও ছাত্রলীগ কর্মী বাপ্পীকেও পর্যায়ক্রমে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।

ঘটনার সময় স্থানীয় কাউন্সিলর হারাধন দাশ সেখানে থাকলেও প্রাণভয়ে তিনি পালিয়ে যান বলে জানিয়েছেন জাবেদ।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার সারাবাংলাকে বলেন, ‘গুরুতর আহত অবস্থায় দাউদ সম্রাটকে হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন। তার সঙ্গে আসা আহত আরও তিনজন এবং হাসপাতাল এলাকায় ছুরিকাঘাতে আহত একজনকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।’

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা কেউই কোন কথা বলতে রাজি হননি।

সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার বিস্তারিত খবর নিচ্ছেন বলে জানান। এছাড়া, সীতাকুণ্ড উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আল মামুনের মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে।

দিদারুল আলম এবং এস এম আল মামুনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ অনেকটা প্রকাশ্য। তাদের দুজনকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে দুটি গ্রুপ সক্রিয়। দুই নেতাই সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য হওয়া দিদারুল আলম।

এস এম আল মামুন সীতাকুণ্ড আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম মাস্টারের ছেলে।

সারাবাংলা/আরডি/এমও