।। আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।
ভারতে মুসলিম গরু ব্যবসায়ী হত্যার দায়ে আট ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ঝাড়খন্ড রাজ্যের এক আদালত। ২০১৬ সালে মার্চ মাসে ওই রাজ্যের লাতেহার জেলায় এক ১২ বছর বয়সী স্কুল বালক ও ৩২ বছর বয়সী গরু ব্যবসায়ীকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করে দড়ি দিয়ে এক গাছে ফাঁসি দেওয়া হয়। খবর আল জাজিরার।
দুই বছর আগে নিজ নিজ বাড়িতে পালিত গরু নিয়ে বাজারে বিক্রি করতে যাচ্ছিল ইমতিয়াজ খান নামের এক স্কুল বালক ও মাজলুম আনসারি নামের এক গরু ব্যবসায়ী। কিন্তু পথিমধ্যে স্থানীয় হিন্দুরা তাদের বাঁধা দেয়। নির্মম অত্যাচার চালায়- কুড়াল দিয়ে কোপানো হয়, লাঠি দিয়ে মারা হয় ও অবশেষে তাদের গরুর গলায় থাকা দড়ি তাদের গলায় বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।
ওই ঘটনার আড়াই বছর পরে লাতেহার জেলা আদালত শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) আট ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতে প্রায়ই নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন গরু ব্যবসায়ীরা। গত কয়েক বছরে এধরণের ঘটনা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইমতিয়াজের মা নাজমা বেগম বলেন, বিচারকার্যের সময় আসামী পক্ষের আইনজীবী খুব আগ্রাসী আচরণ করতেন। আমি যখন ইমতিয়াজের স্কুলে যাওয়ার সময় আর বাড়িতে তার বাবাকে সহযোগিতা করার সময়ের কথা ও ওইদিনের ঘটনার কথা বলেছি তখন তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলার অভিযোগ এনেছেন।
নাজমা বলেন, আমি আদালতকে বলেছি: ইমতিয়াজ আমার ছেলে ছিল। আমি তাকে বড় করে তুলেছি। তাদের আইনজীবী কিভাবে বলতে পারে যে আমি জানি না আমি কী বলছি?
এদিকে আসামী পক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তদন্তের সময় পুলিশ দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
ভারতে গরুকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে দেখে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু। গরু হত্যা ভারতের অনেক রাজ্যেই নিষিদ্ধ। হিন্দু দুর্বিত্তরা প্রায়ই গরু রক্ষার নামে সংখ্যালঘু মুসলিম ও দলিতদের ওপর হামলা চালায়।
ভারতের তথ্য বিশ্লেষণী ওয়েবসাইট ইন্ডিয়া স্পেন্ড অনুসারে, ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গরু সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৮০টি।
সারাবাংলা/ আরএ