ঢাকা: রাজধানীর বনানীতে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যা মামলার অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ বাদীপক্ষের নারাজি আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ গত বছরের ১৯ এপ্রিল মিডটার্ম পরীক্ষা শেষে বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীতে একটি দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ইউনিভার্সিটি অব স্কলারসের দুই শিক্ষার্থীকে নিয়ে হাসাহাসির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মেহেরাজ ইসলাম, আবু জহর গিফফারি ওরফে পিয়াস এবং মাহাথির হাসানের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ঘটনাটি পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস পর্যন্ত গড়ায়।
শিক্ষকদের মধ্যস্থতায় বিষয়টির আপাত সমাধান হলেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর গেটের সামনে পারভেজের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হলে পরে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ওই রাতেই নিহতের মামাতো ভাই হুমায়ুন কবীর বনানী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বহিরাগতসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে, যেখানে মোট নয়জনকে আসামি করা হয়। তারা হলেন— মেহেরাজ ইসলাম, আবু জহর গিফফারি ওরফে পিয়াস, মো. মাহাথির হাসান, মো. আল কামাল শেখ ওরফে কামাল, আলভী হোসেন জুনায়েদ, আল আমিন সানি, ফাতেমা তাহসিন ঐশী, ফারিয়া হক টিনা ও রাকিব।
অভিযোগপত্রে পিয়াস, ঐশী ও রাকিব পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি আটজনকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতিরও সুপারিশ করা হয়।
তবে পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট না হয়ে মামলার বাদী হুমায়ুন কবীর আদালতে নারাজি আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়ে সিআইডিকে নতুন করে তদন্তের দায়িত্ব দেন।