ঢাকা: প্রায় দুই দশক আগে রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় শফিক নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মো. সোহেল রানা ওরফে কালু এবং মো. নাজিম উদ্দিন ওরফে নাজিম ওরফে নজু। তবে রায় ঘোষণার সময় তারা দুজনই পলাতক ছিলেন। এ কারণে আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. খলিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, আসামিরা গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তরা পেশাদার অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদক-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এক নিরীহ যুবকের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নৃশংস ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। তাই এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তিই উপযুক্ত।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ২২ জুন ভোরে বগুড়া থেকে বাসে ঢাকায় আসেন শফিক। কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে নেমে এশিয়া সিনেমা হলের সামনে পৌঁছালে তিন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। তারা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে শফিক বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নিহতের বাবা আকবর আলী বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের সময় পুলিশ সোহেল রানা ওরফে কালুকে গ্রেফতার করলে তিনি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ৫ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তৎকালীন মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক মো. রেজাউল করিম দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর আদালত অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য, জব্দকৃত আলামত এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।